রাবিতে আবার গুলি

0
112
ru-movement

ru-movementরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় দিনের মতো চলতে থাকা বর্ধিত বেতন ফি প্রত্যাহার ও সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের আন্দোলনে দ্বিতীয় বারের মতো পুলিশী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ‘বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকোর্স বিরোধীশিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে চলতে থাকা আন্দোলনে সকালে একবার হামলা চালায় পুলিশ ও ছাত্রলীগ। এসময় পুলিশের দফায় দফায় হামলা ও ব্যরিকেডে টুকিটাকি চত্বরে আটকা পরে কয়েক হাজার আন্দোলনকারী।

পরে দুপুর ২ টার দিকে অবরুদ্ধ আন্দোলনকারীদের উদ্ধারে হলগুলো থেকে নেমে আসে আরও হাজারো শিক্ষার্থী। এ সময় তাদের সাথে পুলিশের আরেক দফা সংঘর্ষ হয়।

পুলিশ এ সময় নির্বিচারে গুলি চালায় আন্দোলনকারীদের ওপর। এতে গুলিবিদ্ধ হয় প্রায় ১২ জন আন্দোলনকারী। আহতদর রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত তিনি দিন ধরে চলতে থাকা আন্দোলনের মুখে গতকাল শনিবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বর্ধিত ফি স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বর্ধিত ফি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার সময় উপাচার্য ড. মুহাম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কয়েকদিন ধরে এই নৈরাজ্যকর, অশ্লীল পরিবেশ অত্যন্ত ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে মোকাবেলা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতিটি শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঐতিহ্যবাহী নিবিড় সকল কোনোভাবেই নস্যাৎ হতে দিতে চায় না। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল প্রকার বর্ধিত ফি বাস্তবায়ন স্থগিত করছে এবং একই সাথে আমি সকল শিক্ষার্থীকে ক্লাশে ফিরে যাবার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, ফি বাড়ানোর সিন্ধান্ত স্থগিত নয় এটি বন্ধ করতে হবে। আরেক দিকে বাণিজ্যিক স্বার্থে চালু হওয়া সান্ধ্যকোর্স বন্ধ করতে হবে।

আন্দোলনকারীদের দাবি এটা তাদের অধিকারের দাবি, এ দাবি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

সেই ধারাবাহিকতায় তুতীয় দিনের মতো্ আন্দোলন শুরু করে ‘বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকোর্স বিরোধীশিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ’।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় আজ আন্দোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। সকাল থেকেই সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনও আন্দোলন থামানোর হুমকিও দেয়। ভয় দেখাতে বেশ কয়েকটি কটটেলও ফাটায় তারা।

তবে ককটেল,হুমকি উপেক্ষা আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। স্লোগানে স্লোগানে তাদের দাবি আদায়ের প্রত্যয়।

কিন্তু বেলা একটু বাড়ার সাথে সাথে পুলিশও কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। বেলা সাড়ে এগারটা দিকে পুলিশের সহযোগিতায় আরেক দফা হামলা চালায় ছাত্রলীগ। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে। সেসময় আহত হয় প্রায় অর্ধশত। গুলিবিদ্ধ হয় ৯ জন।