পুলিশের গুলি, “আন্দোলন চলছে, চলবে”

0
32
ru-movement

ru-movementরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় দিনের মতো চলছে ‘অধিকার’ রক্ষার আন্দোলন। বর্ধিত বেতন ফি প্রত্যাহার ও সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন অব্যহত রেখেছে ‘বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকোর্স বিরোধীশিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ’। এদিকে আন্দোলনকারদের উপর পুলিশি সহায়তায় ছাত্রলীগের হামলায় শতাধিক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বর্ধিত ফি স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বর্ধিত ফি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার সময় উপাচার্য ড. মুহাম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কয়েকদিন ধরে এই নৈরাজ্যকর, অশ্লীল পরিবেশ অত্যন্ত ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে মোকাবেলা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতিটি শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঐতিহ্যবাহী নিবিড় সকল কোনোভাবেই নস্যাৎ হতে দিতে চায় না। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল প্রকার বর্ধিত ফি বাস্তবায়ন স্থগিত করছে এবং একই সাথে আমি সকল শিক্ষার্থীকে ক্লাশে ফিরে যাবার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, ফি বাড়ানোর সিন্ধান্ত স্থগিত নয় এটি বন্ধ করতে হবে। আরেক দিকে বাণিজ্যিক স্বার্থে চালু হওয়া সান্ধ্যকোর্স বন্ধ করতে হবে।

আন্দোলনকারীদের দাবি এটা তাদের অধিকারের দাবি, এ দাবি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

সেই ধারাবাহিকতায় তুতীয় দিনের মতো্ আন্দোলন শুরু করে ‘বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকোর্স বিরোধীশিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ’।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় আজ আন্দোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। সকাল থেকেই সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনও আন্দোলন থামানোর হুমকিও দেয়। ভয় দেখাতে বেশ কয়েকটি কটটেলও ফাটায় তারা।

তবে ককটেল,হুমকি উপেক্ষা আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। স্লোগানে স্লোগানে তাদের দাবি আদায়ের প্রত্যয়।

কিন্তু বেলা একটু বাড়ার সাথে সাথে পুলিশও কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। বেলা সাড়ে এগারটা দিকে পুলিশের সহযোগিতায় আরেক দফা হামলা চালায় ছাত্রলীগ।

আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছে।

তবে আন্দোলনকারীরা ‘আন্দোলন চলছে, চলবে’, ‘এ দাবি অধিকারের, এ দাবি মেনে নাও’, ‘বর্ধিত ফি বাতিল কর’, ‘শিক্ষা বাণিজ্য এক সাথে চলে না’- ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া অব্যাহত রেখেছেন।

এর আগে ধর্মঘট পালন করতে রোববার সকাল ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও পাশ্ববর্তী ছাত্রবাস থেকে ক্যাম্পাসের টুকিটাকি চত্বরে এসে জড়ো হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। সকাল ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বড়ির উপস্থিতিতে পুলিশ শিক্ষার্থীদের থেকে মাইক কেড়ে নেয় এবং তা ভাঙচুর করে। এতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কা-ধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।

একই সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশের সহযোগিতায় বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের তালা ভাঙার চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা ওই ভবনগুলোতে ছুটে এসে তাতে বাধা দেয়। এরপর থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ৫০-৬০ জন করে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবনের সামনে অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

এছাড়াও কয়েক হাজার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করছেন। বর্তমানে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, আমরা দাবি মেনে নেওয়ার পরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেনে নিতে পারে না। যাতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই ব্যবস্থা করছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে সন্ধ্যাকালীন মাস্টার্স কোর্স চালু ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ফি দুই থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এর আগে থেকেই আইন ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু আছে।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে সন্ধ্যাকালীন মাস্টার্স কোর্স বন্ধ, বর্ধিত ফি বাতিল এবং আইন ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধ করা- এই তিন দফা দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও প্রশাসন ভবন ঘেরাও করার পর বৃহস্পতিবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ধর্মঘট করে আসছে শিক্ষার্থীরা।