১৮ আগস্টের মধ্যে টাকা পাবে আলহাজ টেক্সটাইল

Alhaj_textile-Agrani Bank
আলহাজ্ব টেক্সটাইলএবং অগ্রনী ব্যাংক লোগো

Alhaj_textile-Agrani Bank
আলহাজ্ব টেক্সটাইলএবং অগ্রনী ব্যাংক লোগো

আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে আলহাজ টেক্সটাইলের পাওনা পরিশোধ করতে অগ্রণী ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম এবং বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চ এ নির্দেশ দিয়েছেন। অগ্রণী ব্যাংকের কাছ থেকে আলহাজ টেক্সটাইল প্রায় ৫২ কোটি টাকা পাবে।

আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মঙ্গলবার আদালত অবমাননার মামলায় শুনানীকালে বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। এ মামলায় অগ্রণী ব্যাংক সময় চাইলে আদালত বলেন, আগে আদালতের আগের রায় পরিপালন করতে হবে। এরপর অবমাননার মামলার নিষ্পত্তি করা হবে।

উল্লেখ, আলহাজ টেক্সটাইলের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে আদালত অগ্রণী ব্যাংককে কোম্পানিটির কয়েকটি সঞ্চয়ী হিসাবে রাখা অর্থের উপর মেয়াদী আমানতের হারে সুদ দেওয়ার নির্দেশ নিয়েছিলেন কিন্তু আদালতের নির্দেশের পরও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোম্পানির পুরো পাওনা শোধ করেনি। এ কারণে ব্যাংকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হয়।

সূত্র অনুসারে, প্রায় দুই যুগ আগে এ জটিলতার সূত্রপাত। ১৯৮৯ সালে আলহাজ টেক্সটাইল অগ্রণী ব্যাংক থেকে একটি ঋণ নেয়। ওই ঋণের অর্থ ৯টি আলাদা হিসাবে ওই ব্যাংকেই জমা রাখা হয়;যার মোট পরিমাণ ২ কোটি ৯ লাখ টাকা। এসব হিসাবে জমাকৃত অর্থের বিপরীতে সুদ পাওয়ার কথা কোম্পানিটির।কিন্তু ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্দেশে ওই অর্থ সান্ড্রি হিসাবে সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ (ব্যাংক)। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে ওই অর্থ এফডিআর হিসেবে দেখানো হয়। এসব জটিলতা শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়।

২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট আলহাজ টেক্সটাইলের করা রিট আবেদনের রায় দেয়। এতে অগ্রণী ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয় কোম্পানির এফডিআরে প্রাপ্য সুদ পরিশোধ করার।

অগ্রণী ব্যাংক ওই আদেশের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে আপিল করে। আপিলে বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসাইন, বিচারপতি মোহাম্মদ ঈমান আলী এবং বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারুল হকের বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখেন। রায়ে কোম্পানিটিকে দীর্ঘমেয়াদী আমানতের জন্য প্রচলিত যে হার রয়েছে, সে হারে সুদ দিয়ে যেতে বলা হয়। রায়ের প্রত্যায়িত কপি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে সব পাওনা শোধ করতে বলা হয় ব্যাংকটিকে।

অগ্রণী ব্যাংক আদালতের নির্দেশের পরও আলহাজ টেক্সটাইলের পাওনা পরিশোধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় কোম্পানিটি আদালত অবমাননার মামলা করে।