বাণিজ্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভিয়েতনামের

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও মিসেস রাশিদা খানম সোমবার ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে দেশটির প্রেসিডেন্ট Troung Tan Sang এবং ফার্স্ট লেডি Mai Thi Hanh এর সাথে ফটোসেশনে অংশ নেন। ছবি পিআইডি।

বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থে সব ধরনের বাণিজ্য বাধা অপসারণ ও ভৌত যোগাযোগ স্থাপনে ঐকমত্য পোষণ করে ২০১৬ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বার্ষিক বাণিজ্য ১ হাজার মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সোমবার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তুরুঙ্গ তান সাং-এর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও মিসেস রাশিদা খানম সোমবার ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে দেশটির প্রেসিডেন্ট Troung Tan Sang এবং ফার্স্ট লেডি Mai Thi Hanh এর সাথে ফটোসেশনে অংশ নেন। ছবি পিআইডি।
রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও মিসেস রাশিদা খানম সোমবার ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে দেশটির প্রেসিডেন্ট Troung Tan Sang এবং ফার্স্ট লেডি Mai Thi Hanh এর সাথে ফটোসেশনে অংশ নেন। ছবি পিআইডি।

বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন বাসসকে বলেন, ৮০ মিনিটের দীর্ঘ এ বৈঠকে দুই রাষ্ট্রাপতি দু’দেশের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থে আরো ঘনিষ্টভাবে কাজ করতে একমত হয়েছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেখা যায়, দু’দেশের মধ্যকার বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ হচ্ছে ৭শ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও কম। ২০১৪-’১৫ সালের জুলাই-জুন থেকে বাংলাদেশ ৩২.৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য ভিয়েতনামে রফতানি হয়েছে এবং একই সময়ে ভিয়েতনাম বাংলাদেশে ৩১৮.৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে।

প্রেস সচিব বলেন, উভয় নেতা যতদ্রুত সম্ভব ঘনিষ্ট সম্পর্ক স্থাপনে দু’দেশের নিয়মিত ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁরা যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠান, বাজার সম্পর্কিত তথ্য এবং সংস্কৃতি বিষয়ক পর্যটন বিনিময়। আন্তঃদেশীয় অপরাধ ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে এক সঙ্গে কাজ করতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন।

আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ান অর্থনৈতিক করিডোরের সঙ্গে যুক্ত হতে গভীরভাবে আগ্রহী এবং এক্ষেত্রে ভিয়েতনামের সমর্থন আন্তরিকভাবে উৎসাহ জোগাবে।

এর জবাবে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশ বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে এবং এজন্য তিনি আসিয়ানের অন্যান্য সদস্য দেশের সমর্থন লাভের পরামর্শ দেন। কারণ আসিয়ানে সব সদস্য দেশের সম্মতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে ভিয়েতনামের যেকোন ধরনের বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া এবং আনুসাঙ্গিক প্রয়োজনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে খুবই উদার বিনিয়োগ ও প্রণোদনার পরিবেশ গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ব্যবস্থা করছে এবং এখানে বিনিয়োগকারীরা শিল্প-কারখানা স্থাপনে সহায়ক পরিবেশও পাবেন।

বাণিজ্য হচ্ছে এমন এক প্রধান খাত যেখানে উভয় দেশ পারস্পরিক স্বার্থে অর্থবহ সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারে- একথা উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য আমাদের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে এবং এজন্য বিশেষ করে অশুল্ক বাধা অপসারণে উপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ ও ভিয়েনামের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব বিদ্যমান। এর প্রতিফলন ঘটেছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার উষালগ্নে ভিয়েতনাম ছিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।
২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিয়েতনাম সফরের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন যে, এই সফর দু’দেশের সার্বিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য প্রেরণা যুগিয়েছে।

তার দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্ব প্রদান করে- একথা উল্লেখ করে ভিয়েমনামের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে বাংলাদেশ প্রেসিডেন্টের এই সফর দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রযাত্রায় মাইল ফলক হবে।

তিনি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অব্যাহত সমৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের সরকারকে ধন্যবাদ জানান।’

তুরুঙ্গ তান সাং বলেন, ভিয়েতনামের ৩০ বছর আগে নেয়া সংস্কার কর্মসূচি এখন সফলতায় পরিণত হয়েছে। ভিয়েতনাম অব্যাহতভাবে ৬ শতাংশেরও বেশি বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে এবং মাথাপিছু আয় ২২শ’ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
আবদুল হামিদ বলেন, ভিয়েতনামের মহান নেতা হো চি মিনের মতো আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়তে অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিলেন। এটা আমাকে খুবই আনন্দ দেয় যে, উভয় দেশ তাদের মহান নেতাদ্বয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এর আগে প্রেসিডেন্টসিয়াল প্যালেসে পৌঁছলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও তাঁর সহধর্মিনী রাশেদা খানমকে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ও ম্যাডাম মাই থাই হান কর্তৃক আড়ম্বরপূর্ণ সম্বর্ধনা দেয়া হয়।

অতিথিদ্বয়ের মোটর গাড়িবহর প্রেসিডেন্টসিয়াল প্যালেসে প্রবেশ করলে প্যালেসের রাস্তার দু’ধারে সাদা ও লাল পোশাক পরিহিত একদল ছেলে-মেয়ে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের পতাকা নেড়ে তাদের স্বাগত জানান।

সেখানে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ও ম্যাডাম ফুলের তোড়াসহ বাংলাদেশে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সহধর্মিনীকে অভ্যর্থনা জানান।

এরপর দুই রাষ্ট্রপতি এক সঙ্গে অভিবাদন মঞ্চে যান এবং ভিয়েতনাম সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দলের দেয়া সশস্ত্র অভিবাদন গ্রহণ করেন। এ সময় বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের জাতীয় সঙ্গীত বেজে উঠে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম, ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবউল্লাহ, বাংলাদেশে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ন্যায়েন কায়ান্ড তুস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।