শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০
Home টুকিটাকি গরুর মাংসের দাম বাড়ায় খুশি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গরুর মাংসের দাম বাড়ায় খুশি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গরুর মাংসের দাম বাড়ায় খুশি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।

বাংলাদেশে গরুর মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় খুব খুশি হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে গরু পাচার বিষয়ে কথা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত জানালেন, ‘সীমান্তে কঠোর অবস্থানের কারণে সে দেশে গরুর মাংসের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে।’ এটা শুনে আমি খুশি হয়েছি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গরু পাচার বন্ধে বিএসএফের সাফল্যের প্রমাণ এটি।

Rajnath Singh
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের গরুর মাংস কিনতে কষ্ট হচ্ছে বলে আমি খুশি নই; ভারত থেকে গরু পাচার কমেছে বলেই আমি খুশি।

তিনি বলেন, প্রথমবার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সফরে গিয়েই জওয়ানদের বলেছিলাম, আমার এই সফর তখনই সার্থক হবে যখন সীমান্ত পেরিয়ে আর একটি গরুও বাংলাদেশে যেতে পারবে না। সেই কাজে তারা দারুণ সফল হয়েছেন।

ভারতের শাসক দল বিজেপির কাছে গরু হলো গোধন। তাই বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে গরুর মাংস নিষিদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই পটভূমিতে ‘রাষ্ট্রীয় গোধন মহাসঙ্ঘের’ সেমিনারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছিলেন, পদ পাওয়ার এক মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে গরু পাচার বন্ধ করতে হবে। ভারতে যেকোনো সরকারের উচিত হিন্দুতের বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়ে গোহত্যা নিরুৎসাহিত করা।

তিনি আরও বলেন, মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও গোহত্যায় উৎসাহ না দেওয়ায় মুঘল বাদশাহরা ভারতে শত শত বছর রাজত্ব করতে পেরেছিলেন। তারা জানতেন, অবাধে গোহত্যার অনুমতি দিলে বা মাংস খেতে দিলে প্রজাদের মন পাওয়া যাবে না; রাজত্বও বেশিদিন টিকবে না। এমন কী বাবরও তার উইলে সে কথা লিখে গেছেন। কিন্তু ইংরেজ শাসকরা আসার পরই ভারতের প্রাচীন সংস্কৃতি ও পরম্পরাকে তারা উপেক্ষা করা শুরু করলেন।

অবশ্য ভারতীয় ইতিহাসের বিশেষজ্ঞ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কিংশুক চ্যাটার্জি বলেন, হিন্দুদের সংবেদনশীলতা নিয়ে মুঘল ও ব্রিটিশরা উভয়েই সচেতন ছিলেন। আকবরের নির্দেশ ছিল জবাইখানা যেন শহরের বাইরে থাকে। অন্য মুঘল বাদশাহরাও সেই রীতিতে অটুট থাকায় কোনো সমস্যা হয়নি। ব্রিটিশ আমলে শহরের সীমা বেড়ে যাওয়ায় সমস্যা দেখা দিল। এই জন্য ১৮৯২-৯৩ সালে প্রথমবারের মতো ব্রিটিশদের সঙ্গে দাঙ্গাও হয়।