বাণিজ্য মেলা যেন ‘গুলিস্তানের ফুটপাত’

0
43
Trade Fair3

Trade Fair3‘একদাম বিশ টাকা, দেইখ্যা লন বাইচ্ছা লন’ ক্রেতাদের দৃষ্টি কাড়তে বিক্রেতাদের এমন হাঁকডাকের দৃশ্য নগরীর ফুটপাতে সচরাচরই দেখা যায়। তবে এমন দৃশ্য এখন চোখে পড়ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণেও। প্যাভিলিয়ন ও স্টলের সংলগ্ন মেলা প্রাঙ্গণের বেশির ভাগ ফাঁকা জায়গা দখল করে বসে পড়েছে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। আর হকারের উৎপাত তো আছেই। পোশাক থেকে শুরু করে যেকোনো ধরনের পণ্য পাওয়া যাবে মেলার হকারদের কাছে।

বাণিজ্য মেলায় প্রবেশ করলে এখন এসব ফুটপাতের দোকান আর হকারদের ভিড় লক্ষ্য করা যায় । আর এতে একদিকে অতিষ্ঠ ক্রেতা-দর্শনার্থী অন্যদিকে ক্ষুদ্ধ হয়ে পড়ছেন প্যাভিলিয়ন ও স্টলের মালিকেরা।

তাই মেলার সব প্যাভিলিয়ন ও স্টল কর্মকর্তাগণের মধ্যে বিরাজ করছে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ। তবে পোশাক খাত ও খেলনা ব্যবসায়ীরা এতে বেশি ক্ষুদ্ধ ।

মেলার প্রথম দিকে হকারদের এ দৃশ্য দেখা যায়নি। তবে মেলার দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই এ দৃশ্য আরও বেশি দেখা যাচ্ছে। আর জমজমাট হয়ে উঠছে হকারদের ব্যবসা। মেলার আনাচে-কানাচে কোথাও এখন আর খালী নেই।

মেলায় আগত দর্শনার্থী ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, এটা তো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা নয়, গুলিস্তান আর নিলক্ষেতের মতোই। ফুটপাতের সব জিনিসই তো এখানে পাওয়া যাচ্ছে।

আরেক দর্শনার্থী রেহেনা আক্তার বলেন, কম দামের ফুটপাতের সবই পাওয়া যায়। বিশ টাকা দিয়ে একটা  সবজি কাটার ছুরি কিনেছি।

হকারদের প্রবেশে ক্ষুদ্ধ এমন কয়েকটি পোশাক, খেলনা ও প্লাস্টিক প্যাভিলিয়নের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে তাদের মুখ দিয়ে যেন অগ্নি কণা ঝরল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা অভিযোগ করে অর্থসূচককে  বলেন, অনেক টাকা খরচ করে এখানে প্যাভিলিয়ন নিয়েছি। অথচ সামান্য টাকার বিনিময়ে হকাররা ঢুকে এখানে ঢুকে মেলার পরিবেশ নষ্ট করছে।

আর একজন কর্মকর্তা বলেন, বলে আর কি লাভ হবে, মেলা কর্তৃপক্ষ এসব দেখেও নিরব। আমরা সব বলতে গেলে সমস্যা হবে। ক্রেতারা প্যাভিলিয়নের ভেতরে ঢুকে হকারদের কথা বলা বলি করে।

ইপিবিকে এ ব্যাপারে জানানো হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে অন্য এক কর্মকর্তা ক্ষোভের সাথে বলেন, ইপিবি সকাল-বিকেল দুইবার মেলা প্রাঙ্গণ মনিটরিং করে। তারা কি এসব দেখে না?

এদিকে কিভাবে মেলায় প্রবেশ করছেন জানতে চাইলে পোশাক ও খেলনা বিক্রেতা কয়েকজন হকার বলেন, “গেইটে ৫০০ টেকা দিয়া ঢুকছি।”

কাদেরকে টাকা দিচ্ছেন জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, “এ তথ্য দেওয়া নিষেধ আছে। আর ভাই এইডা শুইন্না আপনার কি অইবো।”

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইপিবি সচিব ও মেলা পরিচালক এ এফ এম মনজুর কাদির অর্থসূচককে বলেন, আমরা তো প্রতিনিয়ত মেলায় অভিযান চালাই আজও অভিযান চালিয়ে কয়েকজন হকারকে আটক করা হয়েছে।

তাছাড়া এ বিসয়টি দেখার মূল দায়িত্ব মেলায় দায়িত্বরত পুলিশ ও গেইটের ইজারাদারের, এদের গাফিলতির কারণেই মেলায় হকার প্রবেশ করে বলে জানান তিনি।

এদিকে ফুটপাত আর হকারদের উৎপাতের বিষয়ে জানতে চাইলে মেলায় দায়িত্ব প্রাপ্ত অসি মো. জহুরুল ইসলাম (জহির) অর্থসূচককে বলেন, কী করবো ভাই প্রতিদিনই তো হকারদেরে বের করে দিই। তার পরও ওরা মনে হয় টিনের ফাঁকফোকর দিয়ে ঢুকে।

এআর