কাশিমপুরে কয়েদির বেশে নিজামী-বাবর

0
98
Nizami_Babor

Nizami_Babor১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামিকে কয়েদির পোশাকে গাজিপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামিদের আদালতে হাজিরা থাকায় তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শনিবার সকাল ১১টার দিকে তাদের নিয়ে একটি প্রিজন ভ্যান চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এ সময় চারজনের শরীরেই ছিল কয়েদির পোশাক।

তারা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ডিজিএফআই এর সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও  সাবেক এনএসআই  মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুর রহিম।

বাবর উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন, সবাই ভাল থাকবেন। দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মজিবুর রহমান ৩০ জানুয়ারি ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলার পৃথক দুটি রায় ঘোষণা  করেন।

দুটির মধ্যে একটি মামলায় নিজামী, বাবর, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া এবং দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৪ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

চোরাচালানের মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৫২ আসামির মধ্যে ১৪ জনকে এই সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়। বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা এই মামলায় একই সঙ্গে এদের পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়। আর অস্ত্র আইনে করা মামলায় এই ১৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরও ৮ জন আসামি বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে আছে বলে জানান চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার রফিকুল কাদের। পলাতক আছেন উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়া ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব নূরুল আমিন ।

বাকী আসামীদের রায় ঘোষণার দিন দুপুরে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পরই কনডেম সেলে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দী নিজামী, বাবর, রেজ্জাকুল ও আব্দুর রহিমের ডিভিশন বাতিল করে কারা কর্তৃপক্ষ।

রায়ের দিন রাত সোয়া ৮টার দিকে চট্টগ্রাম আদালত থেকে বন্দী ১২ আসামির সাজা পরোয়ানা নিয়ে কারাগারে যান বিচারিক ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো.ওমর ফুয়াদ।

একই ঘটনায় অস্ত্র আইনে দায়ের হওয়া আরেক মামলায় ১৪ জনকে যাবজ্জীবন এবং আরও সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক করা হয় দশ ট্রাক অস্ত্রের চালান। এ নিয়ে কর্ণফুলী থানায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন ও ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের অভিযোগে দুটি মামলা হয়।

এসএসআর/এএস