শরিফুলের মানবপ্রেম

0
36
TUB OIL

TUB OILসামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সমাজের মানুষের জন্য কিছু করার তাড়নায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন ইমাম শরিফুল ইসলাম। বিগত কয়েক বছর ধরে এলাকার দরিদ্র শ্রেণির বাড়িতে গিয়ে সেমাই চিনি ও কোরবানির মাংস নিয়ে হাজির হন তিনি। এবারে আরেক ধাপ এগিয়ে বিদেশি একটি সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে এলাকায় একটি মসজিদ নির্মাণ ও ১৩৫টি টিউবওয়েলের পাড় পাকা করেছেন। তার এ সমাজ সেবামূলক কাজ এলাকায় বেশ সাড়া জাগিয়েছে।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ইমাম শরিফুল নিজেই একজন দরিদ্র মানুষ। মাঠে কোনো জায়গা-জমি নেই তার। পৈত্রিক ভিটাতে মাটির ঘরে বসবাস করেন তিনি।

বানুড়িয়া গ্রামের জামে-মসজিদের ইমাম শরিফুল ইসলাম জানান, দরিদ্র মানুষদের জন্য কিছু একটা করতে হবে এমন ইচ্ছে ছিল ছোট বেলা থেকেই। কিন্তু ইচ্ছে থাকলেও অর্থাভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারিনি। এক সময় মাথায় আসে নিজের সামর্থ্য না থাকলেও সমাজের অনেকের তো আছে। তাদের সহযোগিতায় সমাজের দরিদ্র শ্রেণির জন্য কিছু একটা করা যাবে। এ ধারণা থেকেই বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার বিত্তবানদের সাহায্যের অর্থে গত কয়েক বছর ধরে ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরে এলাকার দরিদ্র মানুষের বাড়িতে সেমাই চিনি ও কোরবানির মাংস বিতরণ করছি।

তিনি আরও জানান, সামাজিক কাজে এগিয়ে আসতে অনেকের সাথে যোগাযোগ করতে থাকি। এক পর্যায়ে মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের মাধ্যমে ২০১৩ সালে কুয়েত জয়েন্ট রিলিফ ফান্ডের অর্থায়নে বানুড়িয়া গ্রামে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। একই সংস্থার অর্থায়নে এ বছর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ও বানুড়িয়া গ্রামে ১৩৫টি টিউবওয়েল পাড় পাকা করা হয়।

শরিফুল ইসলাম জানান, এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে কমপক্ষে ১২০টি টিউবওয়েলসহ পাড় পাকাকরণের একটি প্রোজেক্ট পাওয়া যেতে পারে। এ সকল কাজ সংস্থার ঢাকাস্থ অফিসের লোকবল দ্বারা পরিচালিত হয় বলে তিনি জানান।

বানুড়িয়া গ্রামে নির্মিত মসজিদের সভাপতি শিক্ষক দলিল উদ্দিন জানান, নতুন মসজিদ নির্মাণের এক পর্যায়ে অর্থাভাবে মসজিদের কাজ থেমে যায়। এমন সময় ইমাম শরিফুলের মাধ্যমে সুন্দর একটি মসজিদ নির্মাণ করতে পেরে এলাকার মুসল্লিরা বেশ খুশি।

এদিকে বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বলিদাপাড়ার ছবেদ আলীর স্ত্রী জানান, আগে তাদের কলপাড় কাঁচা ছিল। শরিফুল ভাইয়ের প্রচেষ্টায় পাকা কলপাড় পেয়েছি। তিনি আরও জানান, তাদের পাড়াতেই ৭/৮টি কলপাড় বিনা পয়সায় পাকাকরণ হওয়ার সবাই খুশি। শরিফুল ভাইয়ের মতো সমাজের অন্যান্য মানুষ যদি গরিব মানুষ নিয়ে ভাবতো তাহলে সমাজের চেহার পাল্টে যেত-এমন অভিমত তার।

কেএফ