শুরু হচ্ছে মেলা, শেষ হয়নি প্রস্তুতি

0
76
বইমেলা

বইমেলাআয়োজকরা বলছেন মেলার সকল প্রস্তুতি শেষ। আজ দুপুরে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচারক সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েও দিয়েছেন যে আগামি কাল থেকেই শুরু হচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৪।মেলার উদ্বোধনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেলার স্টল বরাদ্দের কাজও শেষ হয়েছে অনেক আগে। দুপুরের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় এবারের মেলা বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে। গ্রন্থমেলায় মোট ২৯৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৩৪টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২৩২টি মূল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৪৩২টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বাংলা একাডেমীর ভিতরে ২৪টি শিশু-কিশোর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৩৩টি ইউনিট, সরকারি প্রতিষ্ঠান-মিডিয়া ও অন্যান্য ৪৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৯টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। তাছাড়া এবারের মেলায় উন্মুক্তসহ ৫৫টি লিটল ম্যাগাজিনকে ‘লিটল ম্যাগাজিন’ কর্নারে জায়গা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। আর এই কর্নারটি এবার কবি খোন্দকার আশরাফ হোসেনের নামে নাম করণ করা হয়েছে।

মেলা ১ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে বলে জানানো হয়। তবে ছুটির দিনে এই মেলা বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক জানান, এবারের মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো বিদেশি অতিথি থাকছেন না। বাংলাদেশি মুকাভিনেতা পার্থ প্রতীম মজুমদার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ দেবেন বলে জানান তিনি।

মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমী যখন এই সমস্ত আয়োজন সেরে ফেলেছে তখন সরেজমিনে দেখা গেল বেশির ভাগ স্টলেরই নির্মাণ কাজ এখনও অসমাপ্ত।

মদীনা প্রকাশনী ইউনিটে করাত দিয়ে কাজ করছেন কাঠমিস্ত্রি রুবেল হোসেন। দোকানের কাজ শেষ করতে কত দিন লাগবে জিজ্ঞেস করতে তিনি বলেন, এই প্রকাশনীর কাজ হয়ত উদ্বোধনীর আগে শেষ করতে পারবো। তবে অন্যান্য কাজ শেষ করতে আরও ৩ দিন লাগবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন এবার মেলার কাজ একটু দেরিতে পেয়েছি। আগেভাগে কাজ পেলে সময়মতো শেষ করা যেত বলে মনে করেন তিনি।

তার মতে নির্মাণ কাজের এখনও ৭০ শতাংশ বাকি। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন বেশ কিছু কাজ কাল প্রধানমন্ত্রী আসার আগেই শেষ হবে।

তবে তার পরও সমগ্র কাজ শেষ হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে বলে মনে করেন তিনি। তার হিসেবে এই অবস্থায় নির্মাণ কাজের প্রায় ৩০ শতাংশ বাকি রেখেই মেলা শুরু করতে হবে।

কারণ হিসেবে প্রকাশকরা দেরিতে ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া, হঠাৎ করে মেলার অংশ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে দুষছেন। তাছাড়া বিগত কয়েকমাস ধরে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে প্রকাশরা আগেভাগে কাজের আদেশ পাননি। তাতে শেষ মুহূর্তে কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় মেলার কাজে বিলম্ব হচ্ছে বলে দাবি তাদের। তবে আজ-কালের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবেন বলে মনে করেন তারা।

এদিকে একাডেমী প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, বরাদ্দ দেওয়া ৫৫টি লিটল ম্যাগাজিনের ৬টিতে কাজ শেষ হয়েছে। মূল প্রাঙ্গণে প্রায় ৪০টি ইউনিটে এখনও কাজ শুরুই হয়নি। বাংলাদেশ প্রেস ইন্সিটিউটের কাঠমিস্ত্রি শিমুল জানান, প্রকাশদের কাছে মেলার বাকী ইউনিটগুলোর কাজ শেষ করে হস্তান্তর করতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগবে।

Book_fair_2মদীনা প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক অর্থসূচককে জানান, অন্য বছরে ২৪/২৫ জানুয়ারির মধ্যেই ইউনিট বরাদ্দ শেষ হয়ে যেত। তবে এবার তা ২৮ জানুয়ারিতে শেষ হয়েছে। তাতে নতুন জায়গায় কম সময়ে কাজ শেষ করা মুশকিল হয়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

সাহিত্য কথা প্রকাশনীর  প্রকাশক জানান, বরাদ্দ দেরিতে হওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। মিস্ত্রি মিলানো দুরহ তাই কাজে সামান্য দেরি। তবে আশা করছি সময়মতো শেষ করতে পারবো।

মেলার দুই প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, মাওলা ব্রাদার্স, সুবর্ণা, সাহিত্য বিলাস, মদীনা প্রকাশনী, প্রথমা,তাম্য লিপি, অন্তরীপ,অন্যন্যা, সাহিত্য কথা,মুক্তচিন্তা, শেখ মুজিব জাদুঘর, বিসিকসহ বহু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ইউনিটে কাজ চলছে। যার অনেকেই উদ্বোধনীর অনুষ্ঠানের আগে শেষ করতে পারবে না।