মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রপ্তানির জট খুলছে

0
109

malaysiaসরকারের সাথে জি টু জি চুক্তির এক বছরে মাত্র সাড়ে এগার’শ শ্রমিক মালয়েশিয়া পাঠাতে পেরেছে বাংলাদেশ সরকার। তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রচ্ষ্টোয় অবশেষে জট খুলছে দেশটিতে সরকারিভাবে জনশক্তি রপ্তানি। এখন থেকে প্রতি মাসে এক হাজার শ্রমিক মালয়শিয়া যেতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বোরাক টাওয়ারে অর্থসূচককের সাথে আলাপকালে এ কথা জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব জাফর আহমদ ।

জাফর আহমদ জানান, চুক্তির পর বেশকিছু দিন সময় লেগেছে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া যেতে আগ্রহী শ্রমিকদের নিবন্ধন ও পাসপোর্ট তৈরিতে। আর সে দেশের কোম্পানিগুলোর চাহিদাপত্র অনুযায়ী শ্রমিক পাঠানো শুরু হলেও মাঝখানে দেশটির সরকার পরিবর্তনের কারণে কয়েকদিন বন্ধ থাকে দেশটিতে শ্রমিক পাঠানোর কাজ। তবে  সেদেশের সরকার ও কোম্পানিগুলোর সাথে কথা বলে মন্ত্রণালয় জনশক্তি রপ্তানি পূণরায় শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ান দূতাবাসে ১০ হাজার জনশক্তির পাসপোর্ট জমা দেওয়া আছে। খুব শিগগিরই তাদের ভিসা পাওয়া যাবে।

জানুয়ারি মাসে ৯০০ শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতিমাসে ১ হাজার শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ জনশক্তি রপ্তানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যানুযায়ী ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পর ২০১৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত নানা জটিলতার কারণে পাঁচ কিস্তিতে মোট ১ হাজার ১৪৯ জন শ্রমিক সরকারিভাবে দেশটি পাঠাতে সক্ষম হয় সরকার। আর জটিলতা কেটে যাওয়ার পর ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে কয়েক কিস্তিতে ১ হাজার ১৩৯ জন শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হয়েছে। একই সাথে সেদেশের কোম্পানিগুলোর চাহিদার আলোকে আগামি ২ মাসের মধ্যে আরও দুই হাজার শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হবে জানিয়েছে বিএমইটি।

এ প্রসঙ্গে বিএমইটির পরিচালক ও মালয়েশিয়ান সেলের প্রধান নজরুল ইসলাম জানান,মালয়েশিয়ায় নতুন সরকারের আগমন, বাংলাদেশী শ্রমিকদের পলায়নসহ নানান কারণে গত বছর শ্রমিক রপ্তানি কম হলেও এ জটিলতা এখন আর নেই।চলতি বছরের মধ্যেই প্রথম কিস্তির ১০ হাজার শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত,২০০৯ সালে বাংলাদেশে থেকে শ্রমিক রপ্তানি বন্ধ থাকার পর ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর মালয়শিয়া সরকারের সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। চুক্তির আলোকে তারা একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর ১০ হাজার শ্রমিক নেওয়ার চাহিদাপত্র পাঠায়। মালয়শিয়ান সরকারের চাহিদানুযায়ী সরকারিভাবে নিবন্ধন করে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। চাহিদাপত্র আসার ৪ মাস পর ২০১৩ সালের এপ্রিলে ১৯৮ জন শ্রমিককে মালয়শিয়া পাঠানোর মাধ্যমে শুরু হয় দেশটি জনশক্তি রপ্তানি।