বাণিজ্য মেলায় শিশু-কিশোরদের আনন্দের ঢল

0
33
mela
https://www.arthosuchak.com/wp-content/uploads/2018/02/brac-epl-august-feb.gif

melaআম্মু ট্রেনে উঠবো ট্রেনে উঠবো বলেই বরাবর থমকে দাঁড়ালো শিশুটি। বাবা-মা দু’জনই কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলেন ছেলের বায়নার কাছে। অবশেষে ছেলের চাওয়া পূরণ করতে হল তাদের। ট্রেনে উঠেই আনন্দে লাফালাফি ছেলেটির। এভাবে প্রতিদিনই মেলায় আসা শিশু-কিশোরদের বায়না পূরণ করতে হচ্ছে বাবা-মায়ের।

বাণিজ্য মেলার ১৯তম আসরে বড়দের পাশাপাশি শিশুদের মন কাড়ার জন্য রয়েছে রাইড, ট্রেন, থ্রি-ডি, নাইন-ডি ও সাকুরা পার্কসহ বেশ কয়েকটি বিনোদন কেন্দ্র। শিশুদের চোখের সামনে পড়লেই বায়না ধরছে তাতে উঠার। আর শুরু হয় চেঁচামেচি আর হৈ-হুল্লোড়। তাদের এই হৈ-হুল্লোড়ে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।

অন্যদিকে, দোকানিরাও নানা রকম খেলনার পসরা সাজিয়ে বসেছে মেলায়। আবার মাঠের মধ্যে শিশুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হকাররা উড়াচ্ছে পাখি। প্লাষ্টিকের তৈরি এ পাখি শিশুরা সহজে উড়াতে না পারলেও তা নিয়ে চলে তাদের কাড়াকাড়ি। কেউ আবার বাঁশিতে ফু দিচ্ছেন। কোনো কোনো শিশু বিভিন্ন প্যাভিলিয়নে ঢুকে সেখানে সাউন্ড বক্সে বাজতে থাকা গানের সাথে সাথে শুরু করে দিচ্ছে নাচ। তাদের এ দোলা চিত্র দেখে আনন্দ পাচ্ছেন অভিভাবকরাও।

রাজধানীর মিরপুর-২ নং থেকে মেলায় এসেছেন সামীয়া রহমান। সাথে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ছাত্র। পড়ে ক্লাস থ্রী-তে। মেয়েটি পড়ে ক্লাস টুতে।

সামীয়া রহমান নাগরদোলার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ছেলেটির চোখে পড়ে এটি। দেখেই ছেলে-মেয়ে দুজনেই গোঁ ধরছে। এখানে উঠাতেই হবে তাদের। পরে নাগরদোলার লাইনে দাড়িয়ে টিকিট কেটে সন্তানদের চাহিদা পূরণ করলেন তিনি।

নাগরদোলা যখন চক্কর মারছিল তখন এতে উঠা সবাই একসাথে চিৎকার করে আকাশ মাথায় তুলছিল। আবার যখন থামানো হয় তখনই আবার কিছু একটা পাওয়ার আনন্দে খুশিতে তাদের মন ভরে উঠল।

পাশেই রয়েছে চার বগীর ছোট ট্রেন। টিকিট কেটে যখনই অভিভাবকরা শিশুদের ট্রেনে তুলে দেয় তখনই তাদের চোখমুখ আনন্দে ভরে উঠে।

এছাড়া রয়েছে নাইন-ডি অ্যানিমেশন। কৃত্তিমভাবে আকাশ-পাতাল ঘুরে আসা যায় এর মাধ্যমে। আখতার ফার্নিচারের পাশেই রয়েছে এই বিনোদন কেন্দ্রটি। এখানে অবশ্য শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বড়রাও দেখার জন্য ভিড় জমায়। এখানে বিভিন্ন বয়সী শিশু-কিশোরদের কৌতুহল এবং ভীড় থাকে চোখে পড়ার মত।

ছোট্ট ঘোড়ার পিঠে চড়ে ৫ বছর বয়সী মিমি অভিনয় করলো ঠিক একজন ঘোড় সওয়ারের মত। পা নাড়াচ্ছিল আর মুখে বলছিল টক টক টক টক…।

কাছে গিয়ে ঘোড়ায় চড়ে কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করলে মিমি বলল, আমার আম্মু অনেক ভালো। আমাকে ঘোড়ায় চড়িয়েছে, ট্রেনে চড়িয়েছে। অনেক মজা এখানে। আমি প্রতিদিন আম্মুর সাথে এখানে আসবো।

শিশু-কিশোরদের বিনোদনের এ জোনটি ভিআইপি গেট দিয়ে প্রবেশ করে বাম দিকে গেলেই দেখা যাবে। এখানে শিশুদের জন্য রয়েছে ৮-৯টি রাইড। এ জায়গাটিতে ঢুকলেই শুনতে পাওয়া যায় শিশুদের চিৎকার ও হই-হুল্লোড়ের শব্দ।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থেকে মেলায় ঘুরতে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল হাই জানান, শিশুদের ঘোরার জন্য তো ঢাকায় খুব বেশি জায়গা নাই। তাছড়া তেমন অবসর সময়ও পাই না। তাই মেলা উপলক্ষে বাচ্চাদের নিয়ে এসেছি। এখানে বাচ্চারা অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে আনন্দ করছে। দেখে বেশ ভালো লাগছে।

জেইউ