অপারেশনের পর বিনা চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু

0
79
dinajpur_map
দিনাজপুর জেলা

dinajpur_mapদিনাজপুরে চিকিৎসকের অবহেলায় বিনা চিকিৎসায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর ক্লিনিকের অন্যান্য রোগীদের বাধ্যতা মূলক ছুটি দিয়ে ক্লিনিকে তালা মেরে পালিয়ে গেছে চিকিৎসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে দিনাজপুর শহরের উপশহর ১নং ব্লকে অবস্থিত নাক-কান-গলা ও সার্জিক্যাল জেনারেল হাসপাতাল নামে প্রাইভেট ক্লিনিকে টনসিল অপারেশনের জন্য ভর্তি হয় দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের সোনাহার পাড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের সাড়ে ৫ বছর বয়সী মেয়ে স্বপ্না আক্তার শাপলা।

ওই প্রাইভেট ক্লিনিকের মালিক ডা. নজরুল ইসলাম দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসক। রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ডা. নজরুল ইসলাম ওই শিশুর টনসিল অপারেশন করেন। অপারেশনের কিছুক্ষণ পর শিশু শাপলা মারা যায়। ঘটনার পর রোগীর আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে হাসপাতাল ঘেরাও করলে খবর পেয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

পরে গভীর রাতে হাসপাতালে তালা মেরে পালিয়ে যায় চিকিৎসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। হাসপাতাল বন্ধ থাকার জন্য সেটে দেওয়া হয় নোটিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ছিলেন না ডা. নজরুল ইসলাম। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। একটি সূত্র জানিয়েছে, গত বুধবার রাতেই তিনি ঢাকায় চলে যান এবং তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।

এ ব্যাপারে নিহত শিশুর পিতা মিজানুর রহমান জানান, টনসিল অপারেশনের পর ডাক্তার তার মেয়েকে বেডে দেওয়ার পর ডা. আর আসেনি। অপারেশনের আধা ঘন্টাপর তার মেয়ের অবস্থার অবনতি হয়। এ সময় তিনি  বার বার  ডাক্তারকে ডেকেও পাননি। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে আমার মেয়েকে পাশ্ববর্তী হাসপাতাল জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে নেয়া হয়। তার আগেই আমার মেয়ে মারা যায়। তিনি জানান, মেয়ে মারা যাওয়ার পর তাকে হাসপাতালের একটি কক্ষে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়। পরে তার এলাকার চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, পুলিশ আসার পর আলোচনার মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয়। গভীর রাতে সে তার একমাত্র সন্তানের মৃতদেহ নিয়ে বাসায় ফিরেন। কোন অভিযোগ করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা গরীব মানুষ অভিযোগ করে কি করব?  আর ইচ্ছে করলেই কি অভিযোগ করতে পারব?

শংকরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন জানান, চিকিৎসা নিতে গিয়েই ওই শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। তবে এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

দিনাজপুর কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আলতাফ হোসেন জানান, ঘটনা শোনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশসহ যাওয়া হয়েছিল। তবে এ ব্যাপারে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে প্রশাসন ও স্থানীয়দের ম্যানেজ করেই ক্লিনিকের সবাই গা ঢাকা দিয়েছে। আর তিনি হাবিপ্রবি’র চিকিৎসক হলেও কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেশিরভাগ সময়ই তার নিজ ক্লিনিকে ব্যয় করেন। বৃহস্পতিবার ছুটি না নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও কর্তৃপক্ষ বলছে তিনি কর্মস্থলেই আছেন।

হাবিপ্রবি’র ভিসি মো. রুহুল আমিন জানান, বর্তমানে আমি ঢাকায় আছি। ওই চিকিৎসক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটিতে আছে কি না তা জানা নেই। হাবিপ্রবি’র রেজিষ্ট্রার ড. বলরাম রায় জানান, ওই চিকিৎসক কোন ছুটিতে নেই। তিনি কর্মস্থলে আছেন।

সাকি/