আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায়

0
129

timesorindiaবহুল আলোচিত দশ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান মামলার রায়ে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে ১৪ জনকে। প্রায় ১০ বছর আগে আটককৃত এসব যুদ্ধ-সরঞ্জামের চালান সম্পর্কিত রায়ে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের দুই মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীসহ ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের নেতা পরেশ বড়ুয়া।

বৃহস্পতিবার বন্দর নগরী চট্টগ্রামের একটি আদালতে রায় ঘোষণার পরপরই এ সম্পর্কিত সংবাদ ফলাও ভাবে প্রচার করছে বিদেশি সংবাদ মাধ্যমগুলো। এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায় দেশ ভেদে সংবাদ উপস্থাপনায় বেশ পার্থক্য রয়েছে।

বাংলা ভাষা-ভাষী পাঠকদের সুবিধার্তে তা সংক্ষেপে  উপস্থাপন করছে অর্থসূচকঃ

প্রতিবেশী দেশ ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য হিন্দু, আইএএনএস, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে প্রকাশিত প্রতিবেদনে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে উলফার প্রধান পরেশ বড়ুয়ার মৃত্যু দন্ডাদেশের খবর। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মন্ত্রীদের মৃত্যুদন্ডের আদেশকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এসব মাধ্যমের প্রতিবেদনে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রিহমান নিজামীর মৃত্যুদন্ডের খবরকে গুরুত্ব দিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদ মাধ্যমগুলো। ডন, জিয়ো টিভি, দ্য নিউজের মত প্রভাবশালী মাধ্যমগুলোর খবরের শিরোনাম ছিল এমনঃ বাংলাদেশ অস্ত্র চোরাচালান মামলায় জামায়াতে ইসলামী প্রধান সহ ১৪ জনের মৃত্যুদন্ড।

পাকিস্তানি মাধ্যম ছাড়াও জামায়াত নেতার ফাঁসির খবরকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এছাড়াও ওয়াশিংটন পোস্ট, বিবিসি অনলাইন, রেডিও তেহরান, রয়টার্স বার্তা সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল বিজনে টাইমসের প্রতিবেদনে ১৪ জনের মৃত্যু দন্ডাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল মধ্যরাতে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার (সিইউএফএল) ঘাটে ট্রলার থেকে অস্ত্র খালাসকালে পুলিশ ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক করে। অত্যাধুনিক অস্ত্রের এ বিশাল চালানটি নিয়ে তখন দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। অস্ত্র উদ্ধারের পর সেদিন রাতে কর্ণফুলী থানার ওসি আহাদুর রহমান বাদি হয়ে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন।

১০ ট্রাক অস্ত্র আটক ও চোরাচালান মামলায় ২০০৪ সালের ১১ জুন ৪৪ জনের বিরুদ্ধে প্রথম দফা অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আবার তদন্ত হয়। ওই বছরের ২৫ আগস্ট স্থানীয় চোরাচালানি হাফিজুর রহমান, দীন মোহাম্মদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি। অভিযোগপত্রভুক্ত বাকি আসামিদের বেশির ভাগ ছিলেন শ্রমিক, মাঝিমাল্লা। মামলা দুটির বিচার কার্যক্রম শুরু হয় এবং দুই মামলায় ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

এরপর ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সাতটি ত্রুটি চিহ্নিত করে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৬ জুন সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান চৌধুরী দুই মামলায় নিজামী, বাবরসহ নতুন ১১ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন।

এতে অস্ত্র আটক মামলায় ৫০ জন এবং চোরাচালানের মামলায় ৫২ জনকে আসামি করা হয়। ওই বছরের ১৫ নভেম্বর নতুন ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ২৯ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। অস্ত্র আটক মামলায় ৫৬ এবং চোরাচালান মামলায় ৫৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ (৩০ জানুয়ারি) রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত।
বাদীকে আবার জেরার অনুমতি ও আদালত পরিবর্তনের জন্য হাইকোর্টে তিন আসামির করা চারটি আবেদন ২৭ জানুয়ারি খারিজ হয়।