‘জলবায়ুর পরিবর্তনে ৩০ শতাংশ কৃষিজমির উৎপাদন কমবে’

0
37
kazi kholikujjaman.
ড. কাজী খলিকুজ্জামান
kazi kholikujjaman.
ড. কাজী খলিকুজ্জামান

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামি ৩০ বছরের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ কৃষিজমির উৎপাদন কমে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বেসরকারি সংস্থা সমষ্টি ও অক্সফাম এর উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘গণমাধ্যম সহায়িকা : জলবায়ু পরিবর্তন অর্থায়ন’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে কৃষি জমি ও উৎপাদন কমে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ুর কারণে প্রতিবছর ১ শতাংশ কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। আগামি ৩০ বছরের মধ্য প্রায় ৩০ শতাংশ কৃষি জমির উৎপাদন কমে যেতে পারে। তবে উৎপাদন ক্ষমতা যদি ৩০ শতাংশ না কমে ১০ শতাংশও কমে তাহলেও কিন্তু কৃষির ওপর বড় প্রভাব পড়বে।

তিনি জানান- অধিক জনসংখ্যা, নদীর ওপর দখল না থাকাসহ নানা কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন বেশি ঘটছে। যার প্রভাব পড়ছে গ্রাম অঞ্চল ও সাধারণ মানুষের ওপর। তাই জনসংখ্যা বৃদ্ধির ওপর ভালোভাবে নজর দিতে হবে। মানুষকে সমন্বিত করে সামাজিক প্রক্রিয়ায় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের উন্নয়নে নানাভাবে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি ভাবে ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তহবিলে এক তৃতীয়াংশ জমা থাকবে আর দুই তৃতীয়াংশ ব্যবহার হবে। এদেশে সবচেয়ে বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় । আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এ বিষয়ে অনেক অঙ্গীকার দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন খুবই কম হয়।

কৃষিবিদ ও গণমাধ্যম কর্মী শাইখ সিরাজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত না হওয়ায় এসব প্রকল্পের সুফল পাওয়া যায় না। জলবায়ুর পরিবর্তনের বিষয়ে কৃষকরা অবগত নয়। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক অনেক প্রকল্প দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এভাবে প্রকল্পগুলো বাইরে চলে গেলে কৃষির ওপর বেশি প্রভাব পড়বে।

তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রতিরোধ করার জন্য অনেক বেশি ফান্ড জরুরি বলে মন্তব্য করে বলেন, কৃষি গবেষণা সম্প্রসারিত করার জন্য প্রচুর ফান্ড থাকতে হবে। খাদ্য নিরপত্তাকে সুসংগঠিত করতে হলে জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব প্রতিরোধ করা খুবই জরুরি। এজন্য দরকার ফান্ড।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের মধ্য যে দশটি দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তার মধ্য বাংলাদেশ প্রথম সারিতে আছে। তবে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমষ্টির পরিচালক মীর সাহিদুল আলম, অক্সফামের প্রকল্প পরামর্শক মনীষা বিশ্বাষ, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়নের সাবেক সভাপতি এম খায়রুল কবীর, সমকালের সহযোগী সম্পাদক অজয় দাশ গুপ্ত।

এসএস