টাকা শূন্য এটিএম বুথ, অসহায় গ্রাহকরা

atm

atmবেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সুমন আহমেদ। থাকেন মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায়। সোমবার রাত ৮ টার দিকে হঠাৎ তার বাবা অসুস্থ হওয়ায় নিয়ে যান একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে। প্রাথমিকভাবে ভর্তি ও অন্যান্য খরচ বাবদ ৫ হাজার টাকার প্রয়োজন হয়। এরপর তিনি দ্বারস্থ হন ডাচ বাংলা ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে। কিন্তু সে বুথে কোনো টাকা নেই বলে জানায় দায়িত্বরত পাহারাদার। এরপর তিনি মিরপুর-১, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়াসহ কয়েকটি বুথে ঘুরেও টাকা তুলতে পারেননি। তবে বন্ধু-বান্ধব ও আত্নীয়-স্বজনের সহায়তায় এ যাত্রা টাকা যোগাড় করেত পারলেও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অর্থসূচককে বলেন, সহজে এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলা যায় বলে এখন মানুষ ঘরে খুব বেশি নগদ টাকা রাখে না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে কোনো বুথেই টাকা নেই। এতে জরুরি প্রয়োজনে মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে।

একই অবস্থা সুমন নামের ব্র্যাক ব্যাংকের অপর একজন গ্রাহকের। তিনি অর্থসূচককে জানান, কাছে টাকা না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার এক ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথে যায়। কিন্তু সেখানে টাকা না থাকায় আরও কয়েকটি বুথ ঘুরে টাকা না পেয়ে হতাশ হই। তিনি বলেন, এখন মানুষ ব্যাংকের চেয়ে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের প্রতি বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কিন্তু বুথগুলোতে টাকা না থাকায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এরকম অবস্থা রাজধানীসহ দেশের সব এলাকার মানুষের। এটিএম বুথে টাকা না পেয়ে বিপদে পড়ছেন তারা। ফলে নগদ টাকা তুলতে ব্যাংকের দ্বারস্থ হচ্ছেন। কিন্তু ব্যাংকগুলো বড় অঙ্কের লেনদেন করছে না বলেও তারা অভিযোগ করেন।

ব্যাংকগুলো বলছে, হরতাল-অবরোধে নাশকতার ভয়ে নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের বুথগুলোতে টাকা পৌঁছে দিতে পারছে না। এ কারণে সংকট তৈরি হয়েছে। এ রকম টানা কর্মসূচি চললে সংকট আরও বাড়বে।

জানা গেছে, বিভিন্ন শাখায় নগদ টাকা পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি থাকে ব্যাংকগুলোর। তাঁরাই নিজ দায়িত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অথবা নির্দিষ্ট ব্যাংকের ফিডিং বা বড় শাখা, যেখান থেকে টাকা নিয়ে অন্যান্য শাখা বা বুথে পৌঁছে দেয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানই কোটি কোটি টাকা আনা-নেওয়ার ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে বিভিন্ন ব্যাংকের সাড়ে পাঁচ হাজারের মত এটিএম বুথ রয়েছে। আর টাকা তোলার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড রয়েছে ৮১ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে ৭২ লাখের বেশি রয়েছে ডেবিট কার্ড। সবচেয়ে বেশি আড়াই হাজারের মতো এটিএম বুথ রয়েছে বেসরকারি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের। এর পরেই রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের ৩৩৩টি এটিএম বুথ।

এ বিষয়ে ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকারর্স বাংলাদেশ (এবিবি)-এর সভাপতি নূরুল আমিন অর্থসূচককে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে চলাচল করা নিরাপদ নয়। তাছাড়া এ কাজগুলো সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানগুলো করে থাকে। কিন্তু দেশের এ পরিস্থিতিতে তারাও টাকা নিযে যেতে সাহস করছে না। ফলে ব্যাংকসহ বিভিন্ন এটিএম বুথে নগদ টাকার সংকট তৈরি হয়েছে। গ্রাহকদের অসুবিধা দূর করতে ব্যাংকের কাছাকাছি এটিএম বুথে টাকা সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, মাসের প্রথমে গ্রাহকদের টাকার দরকার হয়। এ সময়ে তারা টাকা না পেলে অসুবিধায় পড়বেন। তাই আমরা চেষ্টা করছি গ্রাহকদের এ অসুবিধা দূর করার।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র ম. মাহফুজুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, ব্যাংকের শাখা এবং এটিএমগুলোতে টাকা পৌছানোর জন্য আমরা ব্যাংকের নির্বাহীদের বলেছি। গুনার সমস্যা এড়াতে ব্যাংকগুলোকে নতুন টাকা সরবরাহ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর নিরাপদে টাকা লেনদেনর জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)কে তাদের সহায়তা চেয়ে আজ (মঙ্গলবার) চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামিকাল থেকে ব্যাংক এবং বুথে টাকার সমস্যা হবে না বলে তিনি জানান।