‘মহাজোট শরীকদের মধ্যে সিট ভাগাভাগির একটি তামাশা’

মনোনয়ন পত্র জমা থেকেই এটা স্পষ্ট যে এই নির্বাচন মহাজোটের শরীকদের মধ্যে সিট ভাগাভাগির একটি তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মন্তব্য করলেন  গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতারা।

মঙ্গলবার দুপুরে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সভায় এ মন্তব্য করা হয়।

সভায় সরকারের উদ্দেশ্যে তারা বলেন  সোমবারে জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র জমা থেকে এটা আরও স্পষ্ট যে, এই পাতানো নির্বাচনে কোন বিরোধী পক্ষ নেই। এটি মহাজোটের শরীকদের মধ্যে সিট ভাগাভাগির খেলায় পরিনত হচ্ছে। অনতিবিলম্বে এ সাজানো নির্বাচনের তফসিল স্থগিত করুন।

১৯৯৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের তামাশার নির্বাচনকে মানুষ যেমন প্রত্যাখান করেছিল, এবার আওয়ামী লীগের এই নির্বাচনী খেলাকেও মানুষ প্রত্যাখান করবে উল্লেখ করে তারা বলেন,  নিবন্ধিত ৩৯ টি দলের মধ্যে মাত্র ১৪ টি দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সংসদের প্রধান বিরোধী দল সহ ২৫ টি রাজনৈতিক দলকে বাইরে রেখে সরকারের সাজানো এই নির্বাচনী তৎপরতা যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে কোন গ্রহণযোগ্যতা পাবেনা তা এখন জাতির কাছে অত্যন্ত পরিস্কার।

তারা হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, কথিত গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা বলে একতরফা নির্বাচনী তৎপরতা বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান না করে বরং এ আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে।এটি আরও গভীর সাংবিধানিক জটিলতার সৃষ্টি করবে।

নির্বাচন কমিশনকে সরকারের এই নির্বাচনী খেলার অংশ না হয়ে তফসিল স্থগিত করে সকলের অংশগ্রহণের পরিবেশ তৈরী করার আহ্বান জানান তারা।

তারা সরকারকে এই লক্ষ্যে কার্যকরী রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণেরও আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

সেই সঙ্গে  বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তারা বলেন, হরতাল-অবরোধে সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, পেট্রোল বোমা, রেল ও  যাত্রীবাহী গণপরিবহনে হামলা-আক্রমণে প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের দায়-দায়িত্ব তার এড়িয়ে যাবার কোন সুযোগ নেই।তাকেও এর জবাবাদিহী করতে হবে।

বাম মোর্চার সমন্বয়ক ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের  সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, মোশারফ হোসেন নান্নু, জোনায়েদ সাকি, হামিদুল হক, শহীদুল ইসলাম সবুজ, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, এ্যডভোকেট আব্দুস সালাম, বহ্নিশিখা জামালী, মোফাজ্জল হোসেন মোস্তাক প্রমুখ।

জেইউ/