নিজামী, বাবরসহ ১৪ জনের ফাঁসি

0
38
Nizami_Babor

Nizami_Baborআলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় নিজামী, বাবরসহ ১৪ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মজিবুর রহমান বৃহস্পতিবার এই রায় দেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১২ টা থেকে এই রায় পড়া শুরু করেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মতিউর রহমান নিজামী, লুৎফুজ্জামান বাবর, রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, আবদুর রহিম, শাহাবুদ্দিন, লিয়াকত হোসেন, আকবর হোসেন খান, মহসিন উদ্দিন তালুকদার, কেএম এনামুল হক, হাফিজুর রহমান,  নুরুল আমিন, দীন মোহাম্মদ, আব্দুস সোবাহান ও পরেশ বড়ুয়া।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, ওই সময় যে দুইটি মামলা দায়ের করা হয় তার মধ্যে চোরাচালান মামলায় আসামিদের ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। এছাড়া অস্ত্র মামলায় নিজামী-বাবরসহ ১৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অস্ত্র চোরাচালান মামলায় ৩৮ জন খালাস পেয়েছেন। অস্ত্র আটক মামলায় খালাস পেয়েছেন ৩৬ জন।

এর আগে বেলা সোয়া ১১টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রিজনভ্যানে করে মামলায় কারাগারে আটক থাকা ১১ আসামিকে আদালতে নেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত,২০০৪ সালের ১ এপ্রিল নগরের চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানার (সিইউএফএল) জেটিঘাটে খালাসের সময় দেশের ইতিহাসে অস্ত্রের সবচেয়ে বড় চালান আটক হয়। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া অস্ত্র আটক ও চোরাচালান মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হলো।
অস্ত্র আটকের ঘটনায় ২০০৪ সালের ৩ এপ্রিল কর্ণফুলী থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(বি) ধারায় একটি এবং ১৮৭৮ সালের ১৯(এ) ধারায় অস্ত্র আইনে অপর একটি মামলা করা হয়। দুটি মামলারই বাদী কর্ণফুলী থানার তত্কালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহাদুর রহমান।

আদালত সূত্র জানায়, ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক ও চোরাচালান মামলায় ২০০৪ সালের ১১ জুন ৪৪ জনের বিরুদ্ধে প্রথম দফা অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আবার তদন্ত হয়। ওই বছরের ২৫ আগস্ট স্থানীয় চোরাচালানি হাফিজুর রহমান, দীন মোহাম্মদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি। অভিযোগপত্রভুক্ত বাকি আসামিদের বেশির ভাগ ছিলেন শ্রমিক, মাঝিমাল্লা। মামলা দুটির বিচার কার্যক্রম শুরু হয় এবং দুই মামলায় ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

এরপর ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সাতটি ত্রুটি চিহ্নিত করে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৬ জুন সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান চৌধুরী দুই মামলায় নিজামী, বাবরসহ নতুন ১১ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন।

এতে অস্ত্র আটক মামলায় ৫০ জন এবং চোরাচালানের মামলায় ৫২ জনকে আসামি করা হয়। ওই বছরের ১৫ নভেম্বর নতুন ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ২৯ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। অস্ত্র আটক মামলায় ৫৬ এবং চোরাচালান মামলায় ৫৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ (৩০ জানুয়ারি) রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত।
বাদীকে আবার জেরার অনুমতি ও আদালত পরিবর্তনের জন্য হাইকোর্টে তিন আসামির করা চারটি আবেদন ২৭ জানুয়ারি খারিজ হয়।