১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায় আজ

0
67
Nizami_Babor

Nizami_Baborআজ ঘোষিত হচ্ছে আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায়। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মজিবুর রহমান অস্ত্র এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা দুটি মামলার রায় ঘোষণা করবেন। ১৩ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে বিচারক এস এম মজিবুর রহমান আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের এই দিন ঘোষণা করেন।

এরপর বিচারিক আদালত পরিবর্তন ও তদন্ত কর্মকর্তাকে আবার জেরার আবেদন করে আসামীপক্ষ। কিন্তু গত ২৭ জানুয়ারি আদালত তা খারিজ করে দেন।

এদিকে রায় উপলক্ষে আসামীদের আদালতে হাজির করার জন্য চট্টগ্রাম নেওয়া হয়েছে। মামলার অন্যমত আসামী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীকে গতকাল চট্টগ্রাম নেওয়া হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গনসহ সমস্ত চট্টগ্রামেই নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।

২০০৪ সালের ১ এপ্রিল মধ্যরাতে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার (সিইউএফএল) ঘাটে ট্রলার থেকে অস্ত্র খালাসকালে পুলিশ ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক করে। অত্যাধুনিক অস্ত্রের এ বিশাল চালানটি নিয়ে তখন দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। অস্ত্র উদ্ধারের পর সেদিন রাতে কর্ণফুলী থানার ওসি আহাদুর রহমান বাদি হয়ে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন।

এ দুটি মামলায় আসামী আছে ১০২ জন। এদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জোট সরকারের শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, বিএনপি নেতা ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর,বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম, সেনাবাহিনীর তদন্ত সংস্থা ডিজিএফআইয়ের পরিচালক মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআইয়ের সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার সাহাবুদ্দিন, উপ-পরিচালক মেজর লিয়াকত হোসেন, ফিল্ড অফিসার আকবর হোসেন খান, সিইউএফএলের সাবেক এমডি মোহসীন তালুকদার, মহাব্যবস্থাপক এনামুল হক।

এছাড়া উলফা নেতা পরেশ বড়ূয়া ও তৎকালীন শিল্প মন্ত্রনালয়ের সহকারী সচিব নুরুল আমীন পলাতক রয়েছে।

চট্টগ্রাম অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ রেজাউল করিম মাসুদ বলেন, ইতিপূর্বে  কয়েকবার মাললার রায় না দেওয়ার জন্য বিচারককে হুমকি  দেওয়া হয়। বিচারকের বাসায় কফিন পাঠানো, বোমা ও ককটেল ছুঁড়ে মারা হয়। তাই এ রায়কে ঘিরে বিচারকের বাসভবন, আদালত প্রাঙ্গণসহ নগরীতে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়,  আলোচিত এ মামলাদুটি  প্রথম থেকেই ধামাচাপা এবং পরে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বহুবার। কর্ণফূলী থানায় করা প্রথম মামলার ২০ পৃষ্ঠার ডায়েরি ছিঁড়ে নতুন করে ডায়রি লেখাসহ মামলার বিভিন্ন আলামত নষ্ট করা হয়।  অস্ত্র আটকের দুই মাস পর ১১ জুন অস্ত্র মামলায় ৪৩ জন এবং চোরা চালান মামলায় ৫০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। যাদের  অধিকাংশই ছিল  সিইউএফএলের  নিরহ শ্রমিক ও স্থানীয় মাঝি। বাদ দেওয়া হয়েছে উলফার সদস্যদের। গেল ১০ বছর ধরে চলা এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা বদল করা হয়েছে পাচঁবার। এর মধ্যে তদন্তের অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে তিন তদন্ত কর্মকর্তাকে বহিস্কারও করা হয়।

২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপেক্ষিতে মামলা দুটি অধিকতর তদন্তের  নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১১ সালের ২৬ জুন সিআইডি আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেয়।  তাতে নতুন করে ১১ জনকে আসামী করা হয়।

বাংলাদেশের ভূখন্ড  ব্যবহার ও সিআইডিকে নির্দেশনা দেওয়ার দায়ে আদালতে আসামীদের ১৬৪ ধারার  জবানবন্দির ভিত্তিতে ২০১০ সালের ৩ অক্টোবর আটক করা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং  ২০১১ সালের ৪ মে আটক করা হয় সাবেক  শিল্পমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে।।