দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায় বৃহস্পতিবার

0
38
Nizami_Babor

Nizami_Baborচট্রগ্রামের  সিইউএফএল জেটিতে ২০০৪ সালে আটক করা হয় দেশের সর্ববৃহৎ অস্ত্রের চালান দশ ট্রাক অস্ত্র। দেশের দুই গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাসহ সাবেক দুই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় দেশ বিদেশে সমালোচলার ঝড় উঠে। দীর্ঘ এক যুগ পর  বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিশেষ আদালতে হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত দশ ট্রাক অস্ত্র আটক মামলার এ রায় । রায়কে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরী ও আদালত প্র্ঙ্গণ জুড়ে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।

চট্টগ্রাম অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ রেজাউল করিম মাসুদ বলেন, ইতিপূর্বে  কয়েকবার মাললার রায় না দেওয়ার জন্য বিচারককে হুমকি  দেওয়া হয়। বিচারকের বাসায় কফিন পাঠানো, বোমা ও ককটেল ছুঁড়ে মারা হয়। তাই এ রায়কে ঘিরে বিচারকের বাসভবন, আদালত প্রাঙ্গণসহ নগরীতে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।

জানাযায়, ২০০৪ সালের ১লা এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানায় (সিইউএফএল) আটক হয়  দেশের সর্ববৃহৎ দশ ট্রাক অস্ত্র চালানটি। পরদিন তৎকালীন নগরীর কর্ণফূলী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহাদুর রহমান বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘঠন উলফার সংঘঠনটি চীন থেকে আনা এসব অস্ত্র চালানের সাথে  তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ  দেশের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জড়িত ছিল। তাই  প্রথম থেকেই মামলাটি  ধামাচাপা এবং পরে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বহুবার। কর্ণফূলী থানায় করা প্রথম মামলার ২০ পৃষ্ঠার ডায়েরি ছিঁড়ে নতুন করে ডায়রি লেখাসহ মামলার বিভিন্ন আলামত নষ্ট করা হয়।  অস্ত্র আটকের দুই মাস পর ১১ জুন অস্ত্র মামলায় ৪৩ জন এবং চোরা চালান মামলায় ৫০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। যাদের  অধিকাংশই ছিল  সিইউএফএলের  নিরহ শ্রমিক ও স্থানীয় মাঝি। বাদ দেওয়া হয়েছে উলফার সদস্যদের। গেল ১০ বছর ধরে চলা এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা বদল করা হয়েছে পাচঁবার। এর মধ্যে তদন্তের অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে তিন তদন্ত কর্মকর্তাকে বহিস্কারও করা হয়।

২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপেক্ষিতে মামলা দুটি অধিকতর তদন্তের  নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১১ সালের ২৬ জুন সিআইডি আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেয়।  তাতে আগের  নতুন করে ১১ জনকে আসামী করা হয়।

বাংলাদেশের ভূখন্ড  ব্যবহার ও সিআইডিকে নির্দেশনা দেওয়ার দায়ে আদালতে আসামীদের ১৬৪ ধারার  জবানবন্দির ভিত্তিতে ২০১০ সালের ৩ অক্টোবর আটক করা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং  ২০১১ সালের ৪ মে আটক করা হয় সাবেক  শিল্পমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে।

মামলার অভিযুক্ত বাকি গুরুত্বপূর্ণ নয় আসামীরা হলেন-বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা  এনএসআইয়ের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম, সেনাবাহিনীর তদন্ত সংস্থা ডিজিএফআইয়ের পরিচালক মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআইয়ের সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার সাহাবুদ্দিন, উপ-পরিচালক মেজর লিয়াকত হোসেন, ফিল্ড অফিসার আকবর হোসেন খান, সিইউএফএলের সাবেক এমডি মোহসীন তালুকদার, মহাব্যবস্থাপক এনামুল হক।

এছাড়া উলফা নেতা পরেশ বড়ূয়া ও তৎকালীন শিল্প মন্ত্রনালয়ের সহকারী সচিব নুরুল আমীন পলাতক রয়েছে।

সাকি/