সান্ধ্যকোর্স বন্ধ ও বর্ধিত ফি বাতিলের দাবিতে উত্তাল রাবি

0
72
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতাবিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ধিত ফি প্রত্যাহার ও বিভিন্ন বিভাগে চালু হওয়া সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ, ক্লাস বর্জন ও প্রশাসন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।

‘বর্ধিত ফি প্রত্যাহার ও সান্ধ্য কোর্স বিরোধী শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দের’ ব্যানারে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি পালন করার পর এ ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১১ টার দিকে বিভিন্ন বিভাগের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের ফটক বন্ধ করে ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। তারা বর্ধিত ফি প্রত্যাহার ও সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স কোর্স বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাণিজ্যিক সান্ধ্য কোর্স চালুর নামে শিক্ষা ধ্বংসের চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের অধীনে থাকা পরীক্ষার ফি ও সনদপত্র উত্তোলনসহ বিভিন্ন প্রকার ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা স্বল্প খরচে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।

অবরোধ শেষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আগামিকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়ে তা সফল করতে সবাইকে আহ্বান জানান। তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহণ চলাচল করতে পারবে বলে জানান তারা। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে উপ-উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। ওই কমিটি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে তাদের দাবি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান তুলে ধরবে। যার মাধ্যমে একটি সমাধান আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের অবস্থান জানিয়েছে। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “ক্রম বর্ধমানহারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এ খাতে আদায়কৃত অর্থ ও বাজেট বরাদ্দ থেকে সামগ্রিক ব্যয় সংকুলান করা যাচ্ছিল না। ফলে বর্তমানে পরীক্ষা খাতে পুঞ্জিভূত ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। কিন্তু এই ফি বৃদ্ধির ফলে বছরে আনুমানিক প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা আদায় হতে পারে। এক্ষেত্রেও একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি বিষয়গুলো বিরাজমান বাস্তবতার সাথে বিবেচনা করে ফিস বৃদ্ধির সুপারিশ করে। সে সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স কমিটির মাধ্যমে বিবেচিত হয়ে সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হয়।”