ক্রেতাদের দৃষ্টি কেড়েছে মেয়ে বিক্রয়কর্মীরা

0
130
Sales_Girl_Trade_fair
বাণিজ্য মেলায় মহিলা বিক্রয় কর্মী। ফাইল ছবি

বাণিজ্য মেলায় মহিলা বিক্রয় কর্মী১৯ তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় পণ্য-প্রচারের মাস প্রায় শেষের দিকে। প্রতিবছরের মতো মাসব্যাপী এ প্রচারে ছেলেদের চেয়ে এবারও মেয়েরা এগিয়ে। মেলায় অধিকাংশ স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে পণ্য বিক্রি এবং প্রচারের কাজে মেয়েদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো।

কোনো কোনো প্যাভিলিয়নে শুধু মেয়েরাই কোম্পানির পণ্য বিক্রি করছেন। ক্রেতাদের দৃষ্টি কেড়েছে এই বিক্রয়কর্মীরা। বিজনেস প্রোমোটার, প্রোডাক্ট প্রোমোটার, সেলস অফিসার, সেলস গার্লস এরকম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন নামে পরিচিত এরা।

হোক দর্শনার্থী কিংবা ক্রেতা স্টলে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই তৎপরতা শুরু হয়ে যায় এসব সেলস গার্লদের । সুন্দর বাচনভঙ্গি দিয়ে স্যার সম্বোধন করেই কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরেন। পণ্যের গুণাগুণ বর্ণনা থেকে শুরু করে মেলা উপলক্ষে এর সঙ্গে কী অফার রয়েছে তা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জানিয়ে দেন।

বাণিজ্যমেলায় বেচা-বিক্রিতে বিশেষ নৈপুণ্য প্রদর্শন করছেন এসব তরুণীরা। তবে এরা সবাই রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ও কলেজের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বেশি।

সিঙ্গার, রোহতো, ইফাদ, স্টারশিপ, ইগলু, সনি, কাজী ফার্মস, গোল্ডেন হারভেস্টসহ বেশ কয়েকটি প্যাভেলিয়নের বেশির ভাগ বিক্রয়কর্মীই তরুণী।

কয়েকভাবে এ সেলস গার্লদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে । কোনো কোনো কোম্পানি সরাসরি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে।

মেলায় খণ্ডকালীন চাকরির জন্য সিভি জমা দিয়ে মুখোমুখি হতে হয়েছে মৌখিক পরীক্ষায়। অনেক কোম্পানি কর্তৃপক্ষ লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই করেন বিক্রয়কর্মী। এ ছাড়া ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমেও নিয়োগ দেওয়া হয়।

সাহসী, বুদ্ধিমতি ও আত্মবিশ্বাসী মেয়েরাই এক্ষেত্রে প্রাধান্য পায়। স্মার্টনেস, আকর্ষণীয় চেহারা ও সুন্দর বাচনভঙ্গির দিকটাও বিবেচনা করা হয়ে থাকে। পণ্য বিক্রি এবং প্রচারণার জন্য ভালো মটিভেটিং পাওয়ার থাকতে হয়।

তবে ইংরেজি এবং বাংলায় সুন্দর করে কথা বলার যোগ্যতা থাকতে হয়। কমপক্ষে এইচএসসি পাস হতে হবে। নিয়োগের পর এদেরকে  পণ্যের গুণাগুণ সম্পকে ধারণা দিতে চারদিনের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তাদের কাজ করতে হয়। কোনো কোনো কোম্পানিতে দুই শিফটে কাজ করতে হয়। এদের বেতন সাধারণত ১৫-২০ হাজার টাকা।

এছাড়া মেলায় প্রতিদিন টার্গেট অনুযায়ী বিক্রি করতে পারলে রয়েছে বিশেষ প্রণোদনা। আবার মেলা শেষে সেরা তিন সেলস গার্ল নির্বাচন করে তাদের পুরস্কৃত করবে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান।

বেচাকেনায় পারদর্শিতা প্রদর্শন করতে পারলে  ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে স্থায়ী চাকরির সুযোগও থাকে।

বিক্রয়কর্মী হিসেবে মেয়েদের কেন বেশি নেওয়া হয় এমন প্রশ্নে ‍সিঙ্গারের এক করমকর্তা অর্থসূচককে জানান, মেয়েরা বেশি পণ্য বিক্রি করতে পারে এবং তারা ক্রেতাদের ভালো মোটিভেট করতে পারে। তাই তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে কথা হয় ইরানি প্যাভিলিয়নে কর্মরত সাদিয়ার সাথে। তিনি মিরপুর শাহ আলী ডিগ্রি কলেজের সম্মান ২য় বষের ছাত্রী। প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে এই প্যাভিলিয়নে চাকরি করেন তিনি। একমাসে ২০ হাজার টাকা ও শেষদিন তাকে কিছু গহনা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

গোল্ডেন হারভেস্টের রিমির সাথে কথা হয়। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। এক মাসে তিনি ১৮ হাজার টাকা, দুইটা শাড়ি ও প্রতিদিন আসা যাওয়ার ভাড়াসহ দুপুরের লাঞ্চ পান। ক্লাস না থাকায় ফাঁকা সময়টা কাজে লাগাতেই তিনি এখানে এসেছেন। এছাড়াও চাকরিতে প্রবেশের আগে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের জন্যই তার আসা বলে জানান তিনি।

জেইউ/ এআর