টুকু, এ্যানি ও পরোয়ারের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান করবে দুদক

0
41
Dudok

দুদকমহাজোট সরকারের বিগত আমলের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সাংসদ শামছুল হক টুকু ও বিএনপি-জামায়াতের সাবেক দুই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।  এ লক্ষ্যে সাবেক দু এমপির অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর টুকুর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

বুধবার সেগুন বাগিচায় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় অধিবাসীদের আনা অভিযোগের ভিত্তিতে এ  সিদ্ধান্ত হয় বলে জানায় কমিশনের নির্ভরযোগ্য সূত্র।

টুকু ছাড়াও অপর দুই সাবেক সাংসদ হলেন- বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন র্চৌধুরী এ্যানি ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম পরোয়ার।

কমিশন সূত্রে জানা যায়, পৃথক তিনটি অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এরমধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমিন্ত্রী শামছুল হক টুকুর বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক হারে বৈধ সম্পত্তির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও প্রায় দু’শ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়া, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অর্থপাচা্র করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর জামায়াত নেতা ও সাবেক সাংসদ গোলাম পরোয়ারের বিরুদ্ধে জমি দখল ও দুবাইতে অর্থপাচারের অভিযোগ তুলা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামছুল হক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নামে-বেনামে কয়েকটি বাড়ি ও ফ্লটের মালিক হয়েছেন।নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। ছেলেকে ভিওআইপি ব্যবসার সুযোগ দিয়ে অবৈধভাবে ১৫০ কোটি টাকার মালিক বানিয়েছেন। স্ত্রী, পুত্রবধুসহ আত্মীয়-স্বজনের নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। স্ত্রীর নামে কোটি কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ী করে নাম মাত্র মূল্য দেখিয়ে বৈধ করার প্রয়াস চালিয়েছেন। সরকারি টাকা ব্যবহার করে নিজের প্রয়োজনে বেশ কয়েক বার দেশের বাহিরে ভ্রমন করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়। তবে অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পরই প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে বলে দাবি দুদকের।

অন্যদিকে বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও লক্ষীপুর ১ আসনের সাবেক সাংসদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বিএনপির আমলে ও বিগত সরকারের সরকারের সময় সাংসদ থাকার সুবাধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। ছাত্র নেতা থেকে প্রভাবশালী নেতা হয়ে মজু চৌধুরীর ঘাট  সংলগ্ন এলাকায় জমি দখলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুর, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে বলেও জানায় দুদক সূত্র।

সূত্র আরও জানায়, খুলনা ২ আসনের সাবেক সাংসদ ও জামায়াত নেতা মিঞা মো. গোলাম পরোয়ার এমপি থাকার সময়ে এলাকার মানুষের জন্য দেওয়া সরকারি বিভিন্ন ভাতার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সরকারের বাজেটের টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার না করে দুবাই ও মালয়শিয়া পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, এ তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসার পর যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। শিগগীরই কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হবে।

এইউ নয়ন