বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ডিসিসিআই’র উদ্বেগ

0
44
Dhaka_Chamber
ঢাকা চেম্বার

Dhaka_Chamberনতুন মুদ্রানীতি অনুসারে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটি মনে করছে, দুটি কারণে এটি সম্ভব নয়। প্রথমত: ঋণের উচ্চ সুদ হার। দ্বিতীয়ত: সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ।

মঙ্গলবার সংগঠনের দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এ আশংকা প্রকাশ করা হয়। সোমবার ঘোষিত মুদ্রার নীতির উপর এ প্রতিক্রিয়া জানায় ঢাকা চেম্বার। আগের দিন বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ, যা আগের অর্ধে ছিল ১৫ দশিমক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে সরকারের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা  ১৯.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২২.৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

ঢাকা চেম্বারের প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, উচ্চ সুদের ঋণ নিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। তাই সুদ হার না কমালে ঋণের কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি হবে না।
বেসরকারী ঋণের প্রবৃদ্ধির হারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সুদ হারের স্প্রেড (আমানত ও ঋণের সুদ হারের ব্যবধান) কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ জানিয়েছে ডিসিসিআই।

অন্যদিকে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে অতিমাত্রায় ঋণ নিলে বেসরকারি খাত প্রাপ্য ঋণ থেকে বঞ্চিত হবে বলে ডিসিসিআই-এর প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে। প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, গত অর্ধে সরকারের মোট ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা দুই হাজার  ছয়শ  কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে সরকার চার হাজার ছয়শ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।  সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ যাতে কোনমতেই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম না করে সে ব্যাপারে নজর দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

ডিসিসিআই বলেছে, মুদ্রানীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির হার নিম্নমুখী হওয়া এবং অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধীর গতির সম্ভাবনা দেশের ব্যালেন্স অব পেমেন্টে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী।

মুদ্রানীতিটিতে ঋণ পুনঃ তফসিলিকরণে সাময়িক নমনীয়তা এবং রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে উপকরণ আমদানির জন্য ঋণের খাত সম্প্রসারণ ও সুদ হার হ্রাসের নীতি সহায়তা ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে ডিসিসিআই।  এটি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে তারা।