খুলনায় আনন্দ মেলায় অশ্লিল নৃত্য

0
41
khulna-map

khulna-mapখুলনায় আনন্দ মেলার নামে অশ্লিল নৃত্য দেখিয়ে মেলাকে জমজমাট করার চেষ্টা করছে আয়োজকরা। এছাড়া মেলায় জুয়া ও অসামাজিক কর্মকান্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসন্ন এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা সামনে রেখে আবাসিক এলাকায় এ ধরণের মেলার অনুমতি দেওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অবিলম্বে এ মেলা বন্ধের জন্য মঙ্গলবার তারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা যায়, নগরীর সোনাডাঙ্গা  আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন (বাইপাস সংযোগ সড়কের পাশে) আরাফাত আবাসিক এলাকায় ২৭ জানুয়ারি সোমবার থেকে উল্কা ক্লাবের আয়োজনে মাসব্যাপী ‘আনন্দ মেলা’ শুরু হয়েছে। প্রথম রাতেই মেলার আয়োজকরা অশ্লিল নৃত্য, জুয়া ও অসামাজিক কর্মকান্ড শুরু করে। এবং বিভিন্ন মাদকের বিকিবিনি করে। রাতভর উচ্চ শব্দে গান-বাজনা চলায় পাশ্ববর্তী আরাফাত আবাসিক এলাকা, খানজাহান নগর, হালিম নগর ও ইসলাম নগর এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। বিশেষ করে আগামি ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের পড়া-লেখায় মারাত্মক বিঘগ্ন ঘটছে।

এলাকাবাসী জানান, এ মেলার জন্য এলাকার শিক্ষার্থী ও উঠতি বয়সী যুবক, তরুন ও কিশোররা লেখা-পড়া বাদ দিয়ে সেখানে গিয়ে বিপদগামী হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে এ এলাকায় দেশের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, একাধিক মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্কুলসহ অসংখ্য ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রাতভর অশ্লিল নৃত্য এবং উচ্চ শব্দে গান-বাজনার ফলে লেখাপড়া ও ইবাদত-বন্দেগীতে বিঘগ্ন ঘটছে।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, উল্কা ক্লাবের নাম এবং প্যাড ব্যবহার করে জৈনক ফারুক হোসেন ওরফে ডিআইজি ফারুক নামে এক ব্যক্তি এসব অশ্লিল কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। তার সাথে শামীম, জামাল, গিয়াস আলী খান, কবির হোসেন মৃধা ও হাবিবসহ বেশ কয়েকজন জড়িত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মতিয়ার রহমান, আলমগীর, আনিসুর রহমান ও কয়েকজন ইমাম বলেন, অবিলম্বে এ ধরণের অশ্লিল কর্মকান্ড বন্ধ করা প্রয়োজন। অন্যথায় এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট এবং ছেলে-মেয়েদের লেখাপাড়া বাঁধাগ্রস্থ হওয়াসহ যে কোন সময় এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে।

এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)র মুখপাত্র রাশিদা বেগম বলেন, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে সেখানে অশ্লিল নৃত্য ও জুয়ার আসর বসানোর সুযোগ নেই। মেলার স্থলে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নিয়োজিত করা হয়েছে। শর্ত ভেঙ্গে অন্য কিছু করা হলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাকি/