ঢাবিতে ‘ওয়াইফাই: সংকট ও সম্ভাবনা’ বিষয়ক বৈঠক অনুষ্ঠিত

Y-Fi

Y-Fiঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটি (ডিইউআইটিএস) ‘ওয়াইফাই: সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। আজ দুপুরে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট কনফারেন্স রুমে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সংগঠনের মডারেটর এবং টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আ.জ.ম. শফিউল আলম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন ঢাবির প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) মহাপরিচালক লে. কর্নেল জাকির হোসেন, ঢাবি ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) পরিচালক আলমগীর হোসেন, তথ্য প্রযুক্তিবিদ মুনির হাসান, ঢাবির কবি জসীমউদ্দিন হলের প্রভোস্ট ড. মো. রহমত উল্লাহ, শামসুন্নাহার হলের প্রভোষ্ট অধ্যাপক সাজেদা বানু, বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের প্রভোষ্ট সাবিতা রিজওয়ানা রহমান, আআইটির সহযোগি অধ্যাপক ও ডিইউআইটিএসের উপদেষ্টা ড. কাজী মুহাইমেন-আস-সাকিব, সিইসির সহযোগি অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনার ইউনিভার্সিটির প্রভাষক জাভেদ মোর্শেদ, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সহ-সভাপতি সৈয়দ আলসাম কবীর, আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরামের সাবেক সভাপতি কাওছার উদ্দিন, বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশের প্রশাসক নুরুন্নবী চৌধুরী, উইকিপিডিয়ার ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর জাহিদ হোসাইন খান, ক্যাসপারেস্কি ল্যাব বাংলাদেশের সিইও প্রবীর সরকার, সংগঠনের সাধারণ-সম্পাদক আরিফ দেওয়ানসহ ঢাবির ১৯টি হলের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি।

বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইফাই সুবিধার বর্তমান অবস্থার উপর সংগঠনের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইমরান একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সংকট সমাধানে মত বিনিময় করেন।

বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইফাই সুবিধার বর্তমান অবস্থার উপর সংগঠনের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইমরান একটি জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। ঢাবির ১৭ হলের ১০০০ শিক্ষার্থীর মাঝে পরিচালিত এই জরিপে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত ওয়াইফাই সুবিধার বিষয়ে ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী চরম অসন্তুষ্ট, ২৬ শতাংশ অসন্তুষ্ট এবং ৮ শতাংশ সন্তোষ প্রকাশ করলেও ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো মন্তব্য করেন নি। হলগুলোতে ওয়াইফাই রক্ষনাবেক্ষণের জন্য কোনো লোকবল নেই। ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভাড়া করা ব্রডব্যান্ড লাইন অথবা মডেমের উপর নির্ভরশীল।

সংকট সমাধানে নিরবিচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিতকরণ, সঠিক তদারকি, প্রতিটি হলে সকল রুম ওয়াইফাইয়ের আওতায় আনাসহ ১০টি সুপারিশ করা হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সংকট সমাধানে মতবিনিময় করেন।

বিটিআরসির মহাপরিচালক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি বিভাগ শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় ইন্টারনেট সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংকট সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার।

প্রো-উপাচার্য বলেন, ইন্টারনেট সংকট সমাধানে যোগ্য লোকের বড় অভাব। সম্প্রতি যোগ্য লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে। প্রতিটি হলে প্রতিনিধি নিয়োগ করে কেন্দ্রীয়ভাবে ইন্টারনেট পরিস্থিতি মনিটরিং করা হবে। এছাড়াও ইন্টারনেট ব্যবহারে অ্যাকাডেমিক কাজেই ইন্টারনেট ব্যবহারে উৎসাহ দিতে হবে।

ড. শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তির উন্নয়ন সুবিধা দিতে না পারলে টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠবে না। আলোচকরা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণা বাস্তবায়ন করতে শিক্ষার্থীদের কানেকটিভিটি নিশ্চত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা দিতে না পারলে প্রযুক্তির বিশ্বের প্রতিযোগিতায় আমরা ক্রমেই পিছিয়ে পরবো। সরকারের উচিত দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দ্রুতগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করা।