নিয়ম রক্ষার মুদ্রানীতি,চমক নেই, লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়

0
39

Aziz_Saleh_Jahidচলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের শেষ ৬ মাসের জন্য প্রণীত মুদ্রানীতিকে শুধুই নিয়ম রক্ষার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন অর্থনীতিবিদরা।তাদের মতে, এতে কোনো চমক নেই। এ মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন যোগ্য নয়। তাই লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাবনাও কম।

সোমবার বিকালে গভর্নর ড. আতিউর রহমান এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছেন। এতে একই সঙ্গে রপ্তানি খাতকে চাঙ্গা করা, জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলা হয়েছে। মুদ্রানীতিতে সামগ্রিক ঋণ যোগানের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখা হলেও বেসরকারি খাতের জন্য তা কমানো হয়েছে।

ঘোষিত মুদ্রানীতি বিষয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. বি এম মির্জা আজিজ অর্থসূচককে বলেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের শেষ ৬ মাসের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন অনেক কঠিন হবে। এ মুদ্রানীতি শুধুই নিয়ম রক্ষার ফসল। এতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ প্রাক্কলন করা হলেও তা বাস্তবায়ন মোটেই সম্ভব নয়। প্রবৃদ্ধি বড়জোর ৫ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। চাহিদা বাড়ার কারণে বেসরকারী খাতের যে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে সেটা যথেষ্ট।তবে সেটা্ও অর্জিত হবে কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বেসরকারি খাতে  চাহিদার কমতি আছে বলে জানান তিনি।

সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে তিনি বলেন,সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি বাড়ানো ঠিক আছে। কারণ সরকারের রাজস্ব আয়ের যে লক্ষণ দেখা যাচ্ছে সেখানেও ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সুতরাং সরকারকে ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হবে। আর ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

রেমিটেন্স (প্রবাসী আয়) সম্পর্কে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানি অনেক কমে গেছে। ফলে রেমিটেন্সের নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত আছে। জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে না পারলে রেমিটেন্স আরও কমবে বলে মনে করেন তিনি।

আর এ মুদ্রানীতিকে সরকারের রাজস্ব ঘাটতির মুদ্রানীতি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দেশে বেশকিছু দিন থেকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থাকায় সরকারের রাজস্ব আদায় কমে গেছে। তাই দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সরকারের অর্থের প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ মুদ্রানীতি শুধু সরকারের ব্যয়ের প্রবৃদ্ধিই বাড়িয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ অর্জন করা কঠিন হবে। কারণ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। অর্থাৎ দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন তথা গ্যাস-বিদ্যুৎ এর পর্যাপ্ত সরবরাহ রেখে বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ বাড়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তাছাড়া রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। তাই আগামিতে দেশের অবস্থা আরও খারাপের দিকে যেতে পারে বলে জানান তিনি।

সাবেক এ গভর্নর আরও বলেন, মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। কারণ সরবরাহ ব্যবস্থা ভালো ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি পর্যাপ্ত না থাকলে সাধাণত মূল্যস্ফীতি কমে না বলে তিনি জানান।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ঘোষিত মুদ্রানীতি একেবারেই গতানুগতিক। এটি রক্ষণশীল। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে ঋণ প্রবাহের রাশ টেনে ধরা হলে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জিত হবে না।

এসএই/