কুবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বইয়ের সংকট

0
42
cu

cuকুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রতিষ্ঠার ৭ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত সমৃদ্ধ হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিটি। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় সংকটে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। বইয়ের সংখ্যা যেমন কম তেমনি কম আসন সংখ্যাও। শিক্ষার্থীদের বসার জন্য কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে নেই পর্যাপ্ত আসন ফলে বিপাকে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে রয়েছ ১৪টি বিভাগ এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ হাজার। এ বছর চালু হচ্ছে আরও নতুন তিনটি বিভাগ, কিন্তু সে অনুপাতে বাড়েনি লাইব্রেরির বই এবং আসন সংখ্যা। এতে ক্রমশই বাড়ছে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি।

সরেজমিনে লাইব্রেরিতে গিয়ে দেখা যায়, একটিমাত্র কক্ষের ৩৭টি তাকে রাখা হয়েছে লাইব্রেরির কিছু বই। লাইব্রেরিতে অধ্যয়নের জন্য ৮টি টেবিলে রয়েছে মোট ৪০টি চেয়ার। আসন সংখ্যা কম হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকেই দাঁড়িয়ে বই পড়তে হয়। অন্যদিকে, কোনো শিক্ষার্থীকেই ইস্যু করা হয়নি লাইব্রেরি কার্ড। ফলে চাহিদামত লাইব্রেরি থেকে বই বাইরে নিয়ে অধ্যয়ন এমন কি ফটোকপিরও কোনো সুযোগ নেই শিক্ষার্থীদের।

লোক-প্রশাসন তৃতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র রনি সাহা বলেন, লাইব্রেরিতে কোনো বিষয়ের ভাল লেখকদের বই ও মৌলিক বই নেই। বসার জন্য সিট পাওয়া যায় না। অনেক সময় চেয়ার থেকে উঠে তাকের বই আনতে গেলে দেখা যায় সেখানে অন্য কেউ বসে পড়েছে। এ নিয়ে মাঝে মাঝে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র শাহাবুদ্দিন সাগর বলেন, লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় বই পাওয়া যায় না। সেখানে বসে যে পড়ালেখা করব তারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, আবার বই এনে পড়ব সে সুযোগই নেই।

এই প্রসঙ্গে ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান মহিউদ্দিন মোহাম্মদ তারেক ভুঁইয়া বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমরা বেশ কিছু বই সংগ্রহ করেছি। কিন্তু মূল যে সমস্যা তা হলো লাইব্রেরিতে জায়গা কম, যার ফলে আমরা সব বই লাইবেরিতে রাখতে পারছি না। নতুন তিনটি বিভাগ এ বছর চালু হচ্ছে। ইতোমধ্যেই আমরা তাদের কাছ থেকে বইয়ের তালিকা আহ্ব¦ন করেছি আর লাইব্রেরিটি সমৃদ্ধ করার জন্য সামনের অর্থ বছরে একটি বাজেট পাশ করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার মো: মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন আমি এবং উপাচার্য দু’জনই সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির উন্নয়ন প্রকল্পটি থাকে বিশ্ববিদ্যালয় ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায়। আমরা সে রকম কোনো প্রজেক্ট এখনো পাইনি। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে রাজস্ব আছে তা দিয়ে কিছু বই কেনা যাবে কিন্ত সেগুলো জায়গার অভাবে পড়ে থাকবে। তাই লাইব্রেরির উন্নয়নে আলাদা ভবনসহ যাবতীয় উন্নয়নে আমাদের বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত উপাচার্য তার সময়ে তিনি লাইব্রেরী উন্নয়নসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রজেক্ট পেয়েছিলেন কিন্ত তিনি কোনো উন্নয়নই করেন নি বরং তিনি শুধু নিয়োগ দিয়ে গেছেন।

শিক্ষর্থীদের দাবি, দ্রুত কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিটি সমৃদ্ধ করা হোক, যাতে করে শিক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দে লাইব্রেরিটি ব্যবহার করতে পারে।

এএস