ভালো নেই রাজশাহীর আলু চাষিরা

0
160
potato
আলু নিয়ে বসে আছে

potato khet picরাজশাহীতে লেট ব্লাইট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে আলুক্ষেত। গত এক সপ্তাহ ব্যবধানে কয়েক’শ একর জমিতে লেট ব্লাইট রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। আলু গাছের পাতায় ফোস্কা পড়ার মতো দেখা দেওয়ার পরই সমস্ত গাছ পুড়ে যাওয়ার মতো হয়ে মরে যাচ্ছে। এ ছাড়া হিমাগার গুলোতে প্রচুর আলু থাকায় বাজারে নতুন আলুর দাম অনেক কম। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আগাম আলু চাষিরা।

বাগমারা উপজেলার ইনসেদ আলী, কুদ্দুস মাস্টার, জহুরুল ইসলামসহ অনেক আলু চাষি জানান, আলু চাষে এবার তাদের লোকসান গুনতে হবে। একদিকে বাজারে আলুর দাম কম অপরদিকে রোগের কারণে আলুর উৎপাদনে ভাটা পড়ার উপক্রম। ভটখালী, কোয়ালীপাড়া, বারুইপাড়া ও নাগপাড়া গ্রামের মাঝখানের ডাঙ্গার কয়েকশ একর জমিতে আলুর গাছ ভালো গজিয়ে উঠলেও কৃষকের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে লেট ব্লাইট রোগ।

নাগপাড়া গ্রামের কৃষক মহসিন আলী গত এক সপ্তাহ আগে ওই এলাকার আবদুর রহমানের আলুক্ষেতে প্রথমে ওই রোগ দেখা দেয়। এ সময় বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনো কাজ হয়নি। এরপর ক্রমেই ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন ক্ষেতে। বিভিন্ন বালাইনাশক কোম্পানির প্রতিনিধিদের পরামর্শে কৃষকরা ক্ষেতে ওষুধ প্রয়োগ করলেও কোনো লাভ দেখা যায়নি। ওষুধ প্রয়োগ নিয়েও বিভ্রান্তি দেখা দেয় কৃষকদের মাঝে।

তানোর উপজেলার সিধাইড় গ্রামের আলুচাষি রাজু সোনার জানান, তিনি ১৬ বিঘা জমিতে সময় উপযোগী আলুচাষ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ১২ বিঘা জমিতে লেট ব্লাইট রোগ দেখা দেওয়ায় তার আলুর ক্ষেত ঝলছে গেছে। প্রতি সপ্তাহ কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। তার এমন রোগাক্রান্ত আলুর ক্ষেত উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের লোকজন দেখে বিভিন্ন পরামর্শ দিলেও তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। তানোর উপজেলার বেশির ভাগ আলু ক্ষেতে এভাবে পচন রোগ দেখা দেওয়ায় চাষিরা দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।

কৃষকরা জানান, গত বছরে আগাম জাতের আলুচাষ করে লাভবান হয়েছেন তারা। কিন্তু চলতি মৌসুমে আগাম জাতের আলুচাষ করে খরচের তুলনায় দ্বিগুণ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে।

উপজেলার জিওল গ্রামের আলুচাষি আলী হোসেন জানান, এবার সাত বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলুচাষ করেন। আলুর ক্ষেতে দ্বিগুণ হারে টাকা খরচ করে পরিচর্যা শেষে যথাসময়ে উত্তোলনে হরতাল-অবরোধ বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে তিনি গত রোববার মাঠ থেকে আলু উত্তোলন করেছেন। প্রতিবিঘায় ২৬ বস্তা আলু উৎপাদন হয়েছে। উত্তোলনকৃত আলু মাঠ থেকে বিক্রি করতে না পেরে ট্রাকযোগে খুলনা জেলায় নিয়ে গেছেন। সেখানে সাড়ে সাত টাকা কেজিতে বিক্রি করে খরচ বাদে কেজিতে পাঁচ টাকা বেঁচেছে। তার আলু উৎপাদন করতে প্রতিকেজিতে ৯ টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে তাকে কেজিতে চার টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এক কেজি পৌনে তিন টাকা, বস্তা নিলে ১৮০ টাকা। এভাবেই পথে পথে মাইকিং করে বাঘায় বিক্রি হচ্ছে পুরাতন আলু।

আলু ব্যবসায়ী ও কোল্ডস্টোর মালিকরা জানান, বাজারে যখন আলুর দাম ২০ টাকা থেকে নেমে ১৫ টাকায় আসে তখন আলু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আলু স্টক করতে থাকে। উদ্দেশ্য ছিল পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্রি করা। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও দফায় দফায় হরতালের কারণে সে উদ্দেশ্য আর সফল হয়নি। পরবর্তীতে বাজারে নতুন আলু ওঠার পর  কমে যায় পুরাতন আলুর চাহিদা।

বাঘা হাটের খুচরা আলু বিক্রেতা মানিক মিয়া জানান, এখন বাজারে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১০ টাকা কেজি। এদিক থেকে পুরাতন আলুর দাম সবচেয়ে ভালো (হলেন্ডর) বিক্রি হচ্ছে চার থেকে পাঁচ টাকা কেজি। বাকি যে সব পুরাতন আলু রয়েছে তা লোকজন ছুঁয়েও দেখছে না। এ কারণে ওই সব আলু এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা গরুর খাদ্য হিসেবে মাইকিং করে গ্রামে-গ্রামে বিক্রি করছেন।

বাঘার পাকুড়িয়া এলাকার স্টক ব্যবসায়ী হাফিক জানান, তিনি গত বছর পাঁচ হাজার মণ আলু স্টক করেছিলেন পাশের পুটিয়ায় অবস্থিত এক কোল্ডস্টোরে। উদ্দেশ্য ছিল সংকট মুহূর্তে বেশি দামে বিক্রি করা। কিন্তু এ বছর হরতাল-অবরোধের কারণে তিনি আলু বের করতে না পারায় আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বাগমারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. শামস-ই-তাবরীজ বলেন, আলু ক্ষেতে পচন রোগ দমনের জন্য কৃষি বিভাগের লোকজন বিভিন্ন পরামর্শ দিতে মাঠে কাজ করছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এই ব্লাইট রোগ দেখা দিয়েছে। এটা নিরাময়ের জন্য তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শের চেষ্টা করছেন বলে তিনি জানান।

সাকি/