আলী হায়দার’ ও ‘আবু বকর এখন নেভাল জেটিতে

0
74

Wareshipচট্টগ্রামে নেভাল জেটিতে নোঙর করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য ক্রয়কৃত যুদ্ধজাহাজ ‘আলী হায়দার’ ও ‘আবু বকর’। চীন থেকে আমদানি করা এ জাহাজ দুটি সোমবার সকালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষে গ্রহণ করেন সহকারী নৌ বাহিনীর প্রধান আওরঙ্গজেব চৌধুরী ও চট্টগ্রাম নৌবাহিনীর নৌ কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল আকতার হাবিব।
এদিকে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান নৌবাহিনীর জাহাজ ‘ এইচমাস চিলডার্স’ ৩ জন অফিসার  ও ২৪ জন নাবিক পাঁচ দিনের শুভেচ্ছা সফরে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে এসে পৌঁছায়। অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর এ জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমানায় পৌঁছালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘শাপলা’ ও বানৌজা ঈশাঁ খানের কর্মকর্তা কমান্ডার এ এস এম আফজালুল হক (ট্যাজ) অভ্যর্থনা জানান।
নৌবাহিনী সূত্রে জানা যায়, আধুনিক ক্ষমতা সম্পন্ন জাহাজ দুটি নৌ বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির ফলে নৌ বাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। সমুদ্র এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান রোধ, গভীর সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতা, মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি তেল, গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বরাদ্দকৃত ব্লকসমুহে অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

জাহাজ দুটির দৈর্ঘ্য ১০৩.২২ মিটার এবং প্রস্থে ১০.৮৩ মিটার । জাহাজ দুটি ঘণ্টায় সবোর্চ্চ ২৬ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম। বিমান বিধ্বংসী কামান, জাহাজ বিধ্বংসী মিসাইল এবং সমুদ্র তলদেশে সাবমেরিনের অবস্থান শনাক্তকরণসহ সুনির্দিষ্ট টার্গেটে আঘাত আনতে সক্ষম হবে।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি চীনে জাহাজ দুটিকে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিনেই জাহাজ দুটি সর্বমোট ২৯ জন অফিসার এবং ২৩১ জন নাবিক নিয়ে চীনের কিংদাউ বন্দর হতে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে প্রায় ৭ হাজার ৯৬২ কিলোমিটার সমুদ্রপথ অতিক্রম করে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়।

এ সময় সহকারী নৌ বাহিনীর প্রধান আওরঙ্গজেব চৌধুরী ও চট্টগ্রাম নৌ বাহিনীর নৌ কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল আকতার হাবিবসহ নৌ বাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
শুভেচ্ছা সফরে অস্ট্রেলিয়ান নৌ বাহিনীর জাহাজ : প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘ এইচমাস চিলডার্স’ বাংলাদেশে পাঁচ দিনের  শুভেচ্ছা সফরে আসে।

জাহাজের  প্রতিনিধি কমডোর কমান্ডিং বিএন ফ্লোটিলার সাথে চট্টগ্রাম এ এস এম আফজালুল হক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বাংলাদেশে অবস্থানকালীন চট্টগ্রামে অবস্থিত স্কুল অব মেরিটাইম ওয়ারফেয়ার অ্যান্ড ট্যাকটিস (এসএমডব্লিউটি) ও চট্টগ্রাম নৌঅঞ্চলের বিভিন্ন ঘাঁটি বা জাহাজ পরিদর্শন করবেন।

কমান্ডার এ এস এম আফজালুল হক বলেন, এই শুভেচ্ছা সফর দুই দেশের নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকদের পেশাগত মত বিনিময়, ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ ও পারস্পারিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি উভয় দেশের নৌবাহিনীর দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করা হবে । জাহাজটি শুভেচ্ছা সফর শেষে  ৩১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম ত্যাগ করবে বলে জানান তিনি।

এআর