ফরিদপুরে ২৮ হাজার ২২৮ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা

0
35
boro-cultivate

OLYMPUS DIGITAL CAMERAএ বছর ফরিদপুর জেলার নয়টি উপজেলায় ২৮ হাজার ২২৮ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, উফশি ও স্থানীয় জাতের বোরো ধান আবাদের লক্ষমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। যা থেকে এক লাখ ৬ হাজার ৭৮০ মেট্রিকটন চাল উৎপাদিত হবে।

ফরিদপুর জেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ভাস্কর চক্রবর্তী বলেন, কুয়াশায় কৃষকদের বোরো ধান রোপন কিছুটা ব্যাহত হলেও লক্ষমাত্রা প্রায় অর্জিত হবে। তিনি আরও বলেন, ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা বোরো আবাদে অনীহা প্রকাশ করে অন্য ফসল আবাদে ঝুঁকছে।

এদিকে, বৈরী আবহাওয়া, রাজনৈতিক সহিংসতাসহ নানা প্রতিকুলতা উপেক্ষা করে জেলায় রবি মৌসুমের বোরো ধানের আবাদ চলছে। আর বোরোর আবাদ করতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ঋণদানকারী সংস্থা থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। কেউবা আবার আমন আবাদযোগ্য জমি থাকা সত্ত্বেও টাকার অভাবে আবাদ করতে পারছেন না।

পদ্মা, মধুমতি আড়িয়াল খাঁ বিধৌত ফরিদপুর জেলার অধিকাংশ আমন চাষির বসবাস দারিদ্র্য সীমার নীচে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফসলের আশানুরূপ মুল্য না পাওয়ায় অভাব যেন আর ঘোচে না জেলার কৃষক সমাজের। তাই যেকোনো ফসল আবাদের মৌসুমের শুরুতেই চরম অর্থ সংকটের মুখে পড়তে হয় এসব চাষিদের। বাধ্য হয়েই কেউ ব্যক্তি বা এনজিও প্রতিষ্ঠান থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ফসলের আবাদ করে থাকেন। আর যারা ঋণের সংস্থান করতে ব্যর্থ হন তারা আংশিক জমি লিজ দিয়ে বা বন্ধকি রেখে বোরো আবাদে অর্থের সংস্থান করে থাকেন। এ বছরও আমন চাষে তৈরি হওয়া এ নিয়মের ব্যতিক্রম হয়নি।
জেলার প্রান্তিক বোরো চাষিরা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কেউবা আংশিক জমিন লিজ কিংবা বন্ধকি রেখে বোরো আবাদের অর্থ সংস্থান করছেন।
গ্রামীণ চাষিদের নুন আনতে পান্তা ফুরোয় তাই ধান আবাদের অর্থ জোগাঢ় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই ফসলের মৌসুমে ব্যাপকভাবে মৌসুমী ঋণ চালু করার দাবি তাদের।
সার-কীটনাশকের মুল্য বেশি হওয়ায় অনেকেই প্রয়োজন অনুসারে জমিতে প্রয়োগ করতে পারছে না। ফলে ফসল উৎপাদনে এর প্রভাব পড়ার শংকায় রয়েছেন কৃষকরা।
হরতাল অবরোধের কারণে প্রয়োজন মতো সার, কীটনাশকের সরবরাহ পাচ্ছেন না তারা। তাই ফসল আবাদের মৌসুমে হরতাল অবরোধ না ডাকার অনুরোধ তাদের।
বৈরী আবহাওয়ায় লাগানো ধানের চারাও মরে যাওয়ায় একই জমিতে একাধিকবার চারা রোপন করতে হয়ে এতে বেড়ে যাচ্ছে বোরোর উৎপাদন ব্যয়। সে অনুযায়ী উৎপাদিত ধানের খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মুল্য পাবে কি না তা নিয়েও সংশয়ে রয়েছে কৃষকরা।

এআর