ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরিতে সহায়তার অর্থ ছাড় হচ্ছে না

0
48
cpd_rana
রানা প্লাজা ধসে ক্ষতি গ্রস্তদের নিয়ে সভা করছে সিপিডি
cpd_rana
রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে সভা করছে সিপিডি

সাভারের রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের এখনও প্রকৃত তালিকা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এ ক্ষেত্রে সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। ফলে আহত, নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তথ্যের এই সমন্বয়হীনতার প্রভাব পরেছে সহায়তার অর্থ ছাড়েও। কেউ ১০ লাখ টাকার উপরে পেলেও অনেকে কিছুই সাহায্য পাননি।

রানা প্লাজা ট্রাজেডির নয় মাস হয়ে যাওয়ার পরে এমনই চিত্র উঠে এসেছে সেন্টর ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর রানা প্লাজা নিয়ে ‘সেকেন্ড ইনডিপেনডেন্ট মনিটরিং রিপোর্টে’।

রোববার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘রানা প্লাজা দূর্ঘটনা ও পরবর্তী পদক্ষেপসমূহ, প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের সর্বশেষ পরিস্থিতি বিষয়ক’ আলোচনায় এ গবেষণা প্রবন্ধটি পাঠ করেন সিপিডি-এর অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে ও সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-  সিপিডি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক সাইদুজ্জামান, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের ড. হামিদা হোসেন, মানুষের জন্য প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমএম আকাশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক আলী আহমেদ খান, স্থপতি ইকবাল হাবিব, সিপিডি’র সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিজিএসইএ-এর সভাপতি আতিকুল ইসলাম, বিজিএসইএ-এর সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সাংসদ টিপু মুন্সি, শ্রমিক নেতা নাজমা খাতুন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব মিকাইল শিপার।

রিপোর্টে মোয়াজ্জেম বলেন, দূর্ঘটনায় নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে একেকটি সংস্থা একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) নিখোঁজের সংখ্যা জানাচ্ছে ৩৭৯ জন। অন্যদিকে রানা প্লাজা কো-অর্ডিনেশন সেল এই সংখ্যা ১৮৯ জন এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ-সিপিডি ৯৮ জন বলে উল্লেখ করেছে।

দূর্ঘটনার সময় ভবনটিতে কর্মরত মানুষের সংখ্যা নিয়েও রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য। বিজিএমইএ-অ্যাকশন এইড’র রিপোর্ট বলছে ৩৫৭২ জন, সিপিডি ৩৬৭০, বিলস ৩৯৪৮ আর কো-অর্ডিনেশন সেল ৩৮৪৮ জন।

মোয়াজ্জেম বলেন, দূর্ঘটনার নয় মাসেও নিহত ও নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা বের করতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক। তার মতে প্রকৃত সংখ্যা না পাওয়ার কারণেই পরবর্তী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দূর্ঘটনায় আহতদের যারা পরবর্তীতে কাজে যোগ দিয়েছেন তাদের কেউই কাজের জন্য পুরোমাত্রায় সক্ষম নন। এতে তাদের আয় কমেছে। এসব শ্রমিকরা গার্মেন্টেস খাতে স্বাভাবিক আয়ের তুলনায় ৬০ শতাংশ কম আয় করছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে দূর্ঘটনার পর যে পরিমাণ অর্থ ও অন্যান্য সহায়তার প্রতিশ্রুতি আহত শ্রমিক কিংবা নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে দেওয়া হয়েছিলো তা তারা এখনো অনেকে পাননি। এ ধরণের সমন্বয়হীনতার জন্য প্রকৃত ভুক্তভোগীরা সাহায্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিজিএমইএ-এর সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ৪৪ লাখের বেশি লোক কাজ করছে। এটা সারা বিশ্বের কাছে একটা উদাহরণ। রানা প্লাজা ধসের পর আমাদের এ শিল্পের কিছুটা ক্ষতি হলেও আমরা এখন বিশ্বের কাছে এ বার্তা পাঠাচ্ছি যে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি।

তিনি রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্থদের প্রকৃত তালিকা চেয়ে বলেন, আপনারা আমাদের কাছে তালিকা দেন আমরা সবাইকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেব। এ ভবনে নিহত পোশাক শ্রমিকের ৩০০ জন ছেলে-মেয়েকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত ভরণ-পোষণসহ সার্বিক সুবিধা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ইকবাল হাসান বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আমরা ব্যাপকভাবে পিছিয়ে আছি। তাই আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার দিকে বেশি নজর দিতে হবে। নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে হবে এবং এ খাতের জন্য যেসব নিয়মকানুন আছে তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর পারস্পারিক জবাবদিহিতা সামনে এসেছে। সামগ্রিকভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়া ও ঐক্যবদ্ধতার বিষয়টিও উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, একটা সমন্বয়ের অভাব ছিল রানা প্লাজা উত্তর পরিস্থিতিতে। মানুষের নিহত ও নিখোঁজের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। স্বচ্ছতার বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বারবার এ বিষয়টি ঘুরে ফিরে আসবে। বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে সুযোগ সৃষ্টি হয়। ব্যক্তি পর্যায়ে কিছু কিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে সামগ্রিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ এখনো নেই। এটি বৈশ্বিক খাত। এজন্য পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা দরকার।

শ্রম সচিব বলেন, রানা প্লাজার দুঘটনার পর আমরা এ শিল্পের জন্য একটা শিল্প পার্ক করার পরিকল্পনা করেছি। ইতোমধ্যে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ৩০০ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। গবেষনায় যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তা নিয়ে সরকারের কাছে থাকা তথ্যের সমন্বয় করা হবে বলে তিনি জানান।