৭ খুনের চার্জশিট প্রত্যাখ্যান নজরুলের স্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
37
naraongong
নারায়ণগঞ্জ সাত খুন: ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুন মামলার অভিযোগপত্র প্রত্যাখ্যান করে নারাজি পিটিশন দিয়েছেন নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম। আগামী ৮ জুন ওই পিটিশনের শুনানির তারিখ দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় অপর মামলার বাদি বিজয় কুমার পালকে পরবর্তী তারিখে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা তিনি।

naraongong
নারায়ণগঞ্জ সাত খুন: ফাইল ছবি

আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচ.এম. শফিকুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। র‌্যাবের সাবেক ৩ কর্মকর্তাসহ ৩২ আসামিকে নিয়মিত হাজিরা শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলায় বাদি পক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেলিনা ইসলামের দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র থেকে এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আদালতে আসামিদের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অনেকের নাম এলেও অভিযোগপত্রে তাদের নাম নেই। তাই আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে আজ সোমবার সকালে ৭ খুনের মামলার খুনিদের ফাঁসি ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। ৩ দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদি হয়ে পৃথক মামলা করেন। উভয় মামলায় এই পর্যন্ত ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র‌্যাবের সাবেক ৩ কর্মকর্তাসহ ২২ আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

১১ মাসের দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৮ এপ্রিল আদালতে মামলা ২টির অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডল। নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক ৩ কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত এবং ১৬ জনকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি। এর মধ্যে ২২ জন কারাগারে রয়েছে। ১৩ জনকে পলাতক হিসেবে দেখানো হয়েছে, এদের মধ্যে ৮ জন র‌্যাব সদস্য।

ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে যান এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত আসামি নূর হোসেন। অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ। ভারতীয় এক আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা চলছে। নারায়ণগঞ্জের আদালতে বন্য প্রাণি (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে একটি মামলায় সাজা হয়েছে নূর হোসেনের।এই ২টি কারণ দেখিয়ে গতকাল রোববার সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর পদ থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়।