ফরিদপুরের মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক এখন পথের ভিখারী

0
73
Faridpur Helpless Freedom Fighter Pic

Faridpur Helpless Freedom Fighter Picএকাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আব্দুর রাজ্জাক মাতব্বর (৬৫) এখন পথের ভিখারী। নেই ঘরবাড়ি, জায়গা জমি।একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ২ হাজার টাকায় চলে তার পরিবারের ৫ সদস্যের পরিবার। কংকালসার রুগ্ন শরীর দু’বেলা দু’মুঠো আহার যোগাতে হিমসিম খাচ্ছে। অনুমুতি নিয়ে অপরের জায়গায় একচালা ছাপড়া তুলে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাকের পাঁচ সদস্যের পরিবার।

জানা যায়, এক সময় এই মহান মুক্তিযুদ্ধের নায়ক আব্দুর রাজ্জাক মাতবব্ব ছিলেন টকবগে এক যুবক। স্বাধীনতার এই মহানায়ক জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে এক মাসের নববধূকে বাড়ি রেখে দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মরাগতি সীমান্ত দিয়ে ভারতের পাঠাগড়া হয়ে শিলিগড়ি জেলার মাটিগন্ডা ইউথ ক্যাম্পে গিয়ে পানিঘাটায় ট্রেনিং নেন। সেখান থেকে এক মাস পর ঠাকুরবাড়ি ইউথ ক্যাম্পে ফিরে আসেন। তারপর শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি সময় ৩৪ জন সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধান নিয়ে দিনাজপুর জেলার আটয়ারী থানার বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে আটোয়ারী, দেবীগঞ্জ পাকসেনা ক্যাম্প দখল করে ঠাকুরগাঁ সরকারি হাইস্কুলে ক্যাম্পে ১৫ দিন অবস্থান করে। সেখান থেকে দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাকসেনাদের ১৩টি ঘাটি দখল করে নেয়।

দেশ স্বাধীনের পর ঠাকুরগাঁয়ের মিলিসিয়া ক্যাম্পে অস্ত্র জমা দিয়ে আব্দুর রাজ্জাক আনসার বাহিনীতে যোগদান করে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সে চাকরি হারিয়ে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা ঢেউখালী ইউনিয়নের মোল্লা গ্রামের পিতার শুন্য ভিটায় ফিরে আসে। লেখা পড়া না জানায় তার কপালে জুটে নি সরকারি চাকুরি। বর্তমানে পরের জমিতে কখনো কখনো কামলা দিয়ে ও অন্যদের নিকট থেকে চেয়ে দুবেলা আহার যোগান। শরীরে শক্তি না থাকায় বর্তমানে পরিবার পরিজন নিয়ে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় ভুগছেন এই মুক্তিযুদ্ধা।

কান্না বিজড়িত কন্ঠে এ বীর সেনা বলেন, একাত্তরে সে যে সপ্ন নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম স্বাধীনতার ৪৩ বছরেও সে স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেছে। এই মুক্তিযোদ্ধা তার ভবিষ্যৎ প্রজম্মকে বেচেঁ থাকার নিশ্চয়তার দাবি জানান। তিনি জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট তার পরিবারের প্রতি সুদৃষ্টি দেওয়ার দাবি জানান।

 

এ এস