সোমবার ঘোষিত হচ্ছে বিনিয়োগবান্ধব মুদ্রানীতি

0
29
বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন (ফাইল ছবি)

BBআগামিকাল সোমবার ঘোষিত হচ্ছে চলতি বছরের (২০১৪ সাল) প্রথম ৬ মাসের মুদ্রানীতি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন।

ধারণা করা হচ্ছে গতবছরের শেষ ছয় মাস অর্থাৎ জুলাই থেকে ডিসেম্বরের জন্য প্রণীত মুদ্রানীতির কাছাকাছিই হচ্ছে এবারকার মুদ্রানীতি। দেশের গত কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে আসা স্থবিরতা কাটাতে এবং বাজারে মুদ্রা প্রবাহ বাড়ানোর উপায় থাকছে এবারকার মুদ্রানীতিতে।

এর মধ্যদিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই অনুসরণ করে  আসা সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি থেকে সরে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আগের বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঋণ বা নগদ অর্থের প্রবাহের লাগাম কঠোরভাবে ধরে রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।এতে ঋণ ও বিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠলেও তাতে কর্ণপাত করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে এবার ভিন্ন পরিস্থিতির কারণে ওই অবস্থান থেকে সরে আসছে মুদ্রা বাজারের অভিভাবক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, পণ্য ও সেবার মূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে উচ্চহারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য বর্তমানের মতো প্রবৃদ্ধি সহায়ক ভারসাম্যপূর্ণ মুদ্রানীতি থাকছে। এ মুদ্রানীতি বেশ বিনিয়োগ সহায়ক হবে বলেও মোনো মনে করছেন অনেকে।

তবে নতুন মুদ্রানীতিতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। অর্থবছরের প্রথমার্ধে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম প্রবৃদ্ধি হওয়ায় এ অর্ধে এটি বাড়ানোর প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, ঋণ বিতরণ যাই হোক লক্ষ্যমাত্রা ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশই রাখা হবে। সুত্র জানায় কেন্দ্রীঁয় ব্যাংকের হিসেবে আগামিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে এ খাতে ঋণ বিতরণ অনেক বেড়ে যাবে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের শেষার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত অক্টোবর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছে মাত্র ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।

আর সেক্ষেত্রে অর্থনীতির সার্বিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি জরুরিও বলে মেন করে কেন্ত্রীয় ব্যাংক।

২০১৩ সালের জুলাই-ডিসেম্বরের মুদ্রানীতিতে গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে (পুরোনো ভিত্তি বছর ধরে) নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এর অন্যতম কৌশল ছিল পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন। এ মুদ্রানীতির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল সঞ্চিত অর্থের প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ ধরে রাখা এবং ডিসেম্বর ২০১৩ এর মধ্যে ব্যাপকমুদ্রার প্রবৃদ্ধি ১৭ দশমিক ২ শতাংশে নামিয়ে আনা। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ডিসেম্বর ২০১৩-এর জন্য ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং জুন ২০১৪-এর জন্য ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ব্যাংকিং খাত  থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ২০১৩-১৪ সালের বাজেটে বর্ণিত ২৬ হাজার টাকায় সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত  হয়।

এছাড়া এ মুদ্রানীতিতে পূর্ববর্তী অর্ধ-বছরে (জানুয়ারি-জুন) হ্রাসকৃত রেপো রেট শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ কম বজায় রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ মুদ্রানীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় আরও বৃদ্ধির প্রত্যাশা জ্ঞাপন করা হয়। অবশ্য এ সঞ্চয় পূর্বের চেয়ে ধীরগতিতে করা হবে বলেও মতামত ব্যক্ত করা হয়। তদুপরি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সময় বাজারভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় হার বহাল রাখার পাশাপাশি টাকার মূল্যমানের অস্থিতিশীলতা হ্রাসের জন্যও উদ্যোগ অব্যাহত রাখে।