খুলনায় অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে খুন-হত্যা

0
68
khulna-map

khulna-mapখুলনায় অস্বাভাবিকহারে বাড়ছে খুন-হত্যা। কারণে অকারণে খুন হচ্ছে মানুষ। আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে খুনীরা। বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। ফলে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় খুলনাবাসী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের প্রথম দিনে নগরীর খালিশপুর থানার গোয়ালখালী কবরস্থান থেকে মহসীন নামে এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি।
৩ জানুয়ারি রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের টোলনাস্থ নিজ বাড়িতে গুলি করা হয় ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামকে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সোহান নামে এক ব্যক্তিকে এলাকাবাসী ধরে পুলিশে দিলে ক্রসফায়ারে তিনি নিহত হন। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন গ্রেপ্তার হওয়া এক হত্যাকারী।
৯ জানুয়ারি নগরীর নতুন বাজার এলাকায় এক ভ্যান চালক টুকু শেখকে (৩৫) দুর্বৃত্তরা পিটিয়ে হত্যা করে।
১০ জানুয়ারি ফুলতলা উপজেলার বেজেরডাঙ্গা এলাকায় একটি ড্রাম থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
১৫ জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে পুলিশ খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন উত্তর বণিকপাড়া সড়কের ড্রেন থেকে মো. ওলি নামের এক ইজিবাইক চালকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।
একইদিন নগরীর খালিশপুর বঙ্গবাসী এলাকায় মো. হাসান মোল্লা (২০) নামে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি খালিশপুর বঙ্গবাসী এলাকার বাবুস সালাম জামে মসজিদ সংলগ্ন রোডের এন/এইচ ১২৫ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা লিটন মোল্লার ছেলে। হাসান কাপড়ের ব্যবসা করতেন।
সচেতন মহলের দাবি, নতুন বছরের শুরুতে খুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বেশ অবনতি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও বেড়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা দুর্বৃত্তদের অনেকটা সুযোগ দিয়েছে। এছাড়া ছিনতাই, রাহাজানিও বাড়ছে প্রতিদিন।
উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক এলাকায় গা ঢাকা দেওয়া সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
বিদায়ী বছরের চিত্রও খুব একটা ভিন্ন ছিল না। ২০১৩ সালেও খুলনায় গুম, খুন, রাহাজারির দীর্ঘ তালিকা ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদায়ী বছরে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ৪৪৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২২ জন নেতা-কর্মীও ছিলেন। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সঙ্গে সঙ্গে দুর্বৃত্তদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের বাসিন্দারা চরম আতংকিত হয়ে পড়েছেন।
এর আগে ২০১২ সালে এ অঞ্চলে ২৯ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ ৪৫৯ জন মানুষ খুন হয়েছিলেন।
সূত্র মতে, গত বছরের জানুয়ারি মাসে ৫১টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৭টি, মার্চ মাসে ৪২টি, এপ্রিল মাসে ৪১টি, মে মাসে ৩৫টি, জুন মাসে ৩১টি, জুলাই মাসে ৩৪টি, আগষ্ট মাসে ৩৮টি, সেপ্টেম্বর মাসে ২৬টি, অক্টোবর মাসে ৩১টি, নভেম্বর মাসে ৩৮টি ও ডিসেম্বর মাসে ৪২টি খুনের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৯৮ জন রয়েছে মহিলা ও কিশোরী।
জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মহানগরীসহ খুলনা জেলায় ৮২টি, যশোরে ৯৩টি, বাগেরহাট ৫৯টি, ঝিনাইদহে ৪২টি, কুষ্টিয়ায় ৩৭টি, মাগুরায় ২৫টি, নড়াইল ৩১টি, চুয়াডাঙ্গায় ২৮টি, মেহেরপুরে ৮টি ও সাতক্ষীরায় ৪১টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে।
এছাড়া ৬৩টি লাশ খাল ও ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বস্তাবন্দি অবস্থায়ও ২২টি লাশ পাওয়া গেছে। ধর্ষিত হয়েছে ৮৬ জন নারী ও শিশু। অপহৃত হয়েছে ৬৮ জন।