মুনাফা বাড়াতে ট্রান্সমিশন চার্জ বাড়াবে পিজিসিবি

0
87
Power_Transmission_PGCB
বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন

Power_Transmission_PGCBবিলম্বিত কর বা ডেফার্ড ট্যাক্সের কারণে মুনাফা কমেছে পুঁজিবাজারে বিদ্যুত খাতের কোম্পানি পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি)।  কোম্পানিটি গত ৩০ জুন, ২০১৩ তারিখে সমাপ্ত হিসাব বছরে ১০১ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে, যা আগের বছরে ছিল ১১৮ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানির নিট মুনাফা ১৭ কোটি টাকা বা প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে।

পিজিসিবির বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া বিপুল ব্যাংক ঋণের সুদও মুনাফা কমে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

মুনাফা বাড়াতে আগামিতে বিদ্যুত ট্রান্সিমশন বা সঞ্চালনের চার্জ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়ছেন কোম্পানির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। শনিবার সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স অব ইনস্টিটিউটে কোম্পানির ১৭তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) তিনি এ তথ্য জানান।

এজিএমে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের প্রস্তাবসহ অন্যান্য অ্যাজেন্ডা অনুমোদন করেন উপস্থিত শেয়ারহোল্ডাররা। এতে সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। তিনি কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১২ সালে সম্পাদিত এক চুক্তির বিপরীতে পিজিসিবি বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) থেকে ৪৪০ কোটি টাকার সম্পদ পেয়েছে। কিন্তু চুক্তির কার্যকারিতার ২০০৭ সাল থেকে দেখানোয় প্রাপ্ত সম্পদের অবচয় তিন বছর আগে থেকে হিসাব করতে হয়েছে। একে কেন্দ্র করে সৃষ্ট কর জটিলতায় কোম্পানিকে ৫৭ কোটি টাকার বিলম্বিত কর পরিশোধ করতে হয়েছে। এ কারণে নিট মুনাফা কমে গেছে।

এজিএমে পিজিসিবির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন,  ডেফার্ড ট্যাক্স পরিশোধের জটিলতা শেষ। তাই আগামিতে এ ইস্যুটি মুনাফায় কোনো চাপ তৈরি করবে না। অন্যদিকে মুনাফা বাড়ানোর জন্য তারা বিদ্যুত সঞ্চালনের চার্জ বাড়ানোর কথা ভাবছেন।

তিনি কোম্পানির প্রবৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে বলেন, সারা দেশের বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবাহের কাজ পিজিবিসির উপর ন্যাস্ত।বিদ্যুৎ খাতে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিজিবিসি কাজ করে যাচ্ছে।২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে পিজিবিসি ২২ হাজার ৭৭১ কিলোওয়াট বিদ্যুত সঞ্চালন করেছিল।যা ২০১২-১৩ অর্থবছরে বেড়ে ৩৪ হাজার ৫৫৯ কিলোওয়াট হয়েছে।

এছাড়া বিদ্যুৎ খাতে সরকারের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ২৪ হাজার মেগা্ওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার মেগা্ওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে পিজিবিসি।এ লক্ষ্যে পিজিবিসি ৬ হাজার সার্কিট কিলোমিটার নতুন সঞ্চালন লাইন সম্প্রসারণ করছে ।

২০১২-১৩ অর্থবছরে কোম্পানির মুনাফা কমে যাওয়ায় আলোচ্য বছরে ডিভিডেন্ডের পরিমাণও কমেছে।

সভায় শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন, কম লভ্যাংশ ঘোষণা এবং কোম্পানির নানা অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করেন।

তারা বলেন, আইন অনুযায়ী এজিএমের ১৪ দিন আগে বার্ষিক প্রতিবেদন শেয়ারহোল্ডারদের হাতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তারা অনেকেই তা পান নি।বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আইন করে এজিএমে উপহার দেওয়া নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু কোম্পানিগুলো বিভিন্ন মিটিং এবং এন্টারটেইনমেন্ট বাবদ খরচ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্নসাৎ করছে।

এছাড়া কোম্পানির সেক্রেটারি ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে না এবং আর্থিক প্রতিবেদনে সব হিসাব উল্লেখ থাকে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

সব শেষে শেয়ারহোল্ডারদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিবছর আমাদের আয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সামনে আমাদের বেশি আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা আর্থিক প্রতিবেদন যে কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানো হয়েছে এগুলো তদন্ত করে দেখা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্বতন্ত্র পরিচালক মনোয়ার ইসলাম, পরিচালক ফয়েজ আহমেদ, এবিএম হারুণ-অর রশিদ, একে এম এ হামিদ এবং বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির চেয়ারম্যান আব্দুহু রুহুল্লাহ।

এসএ/