৬ মাসে ৪ খাতেই ক্ষতি ৫০ হাজার কোটি টাকা : সিপিডি

0
44
CPD

CPDদেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে গত ছয় মাসে চারটি খাতে ৪৯ হাজার ১৮ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০১৩-১৪ দ্বিতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনা বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সম্মেলনে গবেষণা পত্র উপস্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় সংস্থাটির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও গবেষণা পরিচালক ড. ফাহমিদা হক উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণা পত্রে উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থ বছরের জুলাই মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিবহন, কৃষি, তৈরি পোশাক ও পর্যটন খাতে ৪৯ হাজার ১৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

এর মধ্যে পরিবহনে ১৬ হাজার ৬৮৮ কোটি ৬৫ লাখ, কৃষিতে ১৫ হাজার ৮২৯ কোটি, পোশাক খাতে ১৩ হাজার ৭৫০ কোটি এবং পর্যটন খাতে ২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

গবেষণা পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে সরকারের রাজস্ব আদায়, বিদেশি বিনিয়োগ, বৈদেশিক অনুদানসহ বিভিন্ন খাতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় অনেক কম হলেও ব্যয়ের মাত্রা কম থাকায় ঘাটতি নেই। এটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই আয় এবং ব্যয়ের কাঠামোকে পুনর্গঠন করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাজেট বহির্ভূত ব্যয় বাড়ানো দরকার।

গবেষণায় পত্রে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে খাদ্য মজৃদ সাড়ে নয় লাখ মেট্রিক টন। যা গত বছরের তুলনায় ৩৮ শতাংশ কম। কৃষি ক্ষ্রেত্রে প্রবৃদ্ধি হলেও তা শুধু ধান উৎপাদনে। বাকী শস্যের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি অনেক কমেছে। শাক সবজির ক্ষেত্রে উৎপাদন কা্রীরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আবার ভোক্তা বাজার থেকে বেশি তা মূল্যে ক্রয় করেছে। পোল্ট্রি ও দুগ্ধ খামারিরা ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে।

রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে উল্লেখ্য করে বলা হয়, অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও তা শুধু তৈরি পোশাক শিল্পেই বেশি। তৈরি পোশাক শিল্প ছাড়া বাকী সব খাতে মাত্র ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। মার্কিন ও ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তুলনায় ভারত, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া তাদের পন্যের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি তিনগুন বৃদ্ধি করেছে। আর বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি কিছুটা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হলেও লভ্যাংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের বিষয়ে বলা হয়, এখাতে উচ্চ মাত্রার ঋণ নতুন উদ্যেক্তা তৈরিতে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। ঋণ জালিয়াতির পরিমাণ পূর্বের তুলনায় অনেক বেড়েছে। নতুন ব্যাংক আসলেও চাহিদা অনুযায়ী প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পায়নি।

পুজি বাজারের ক্ষেত্রে বলা হয়,  এ সময় পুজিবাজারে আইপিওর সংখ্যা বাড়লেও  নতুন উদ্যেক্তা কমেছে ১০ শতাংশ।

এইউ নয়ন