দুর্নীতি কমেছে দেশে, অবস্থান ১৬তম
বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

দুর্নীতি কমেছে দেশে, অবস্থান ১৬তম

TI_logoবিশ্বের সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় এ বছর ১৬তম স্থান দখল করলেও এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয়  স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) দুর্নীতি ধারণাসূচক ২০১৩ অনুযায়ী বাংলাদেশের এ নতুন অবস্থান। গত বছর এই অবস্থান ছিল ১৩তম।

মঙ্গলবার দুপুরে বার্লিন ভিত্তিক দুর্নীতি বিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন টিআইয়ের ‘বিশ্ব দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৩’ প্রতিবেদন প্রকাশকালে বনানীতে টিআইবির কার্যালয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।এই প্রতিবেদন বিশ্বের ১৭৭টি দেশে এক যোগে প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুলতানা কামালসহ টিআইবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ড. সুলতানা কামাল বলেন, “বাংলাদেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে বাগাড়ম্বর যতটুকু ছিল, দুর্নীতি দমনে কার্যকর দৃশ্যমান বিশ্বাসযোগ্য কার্যক্রম তেমন দেখা যায়নি।” বাংলাদেশের দুর্নীতি কমেছে এ বিষয়টা জোড় দিয়ে বলা যাবে না বরং অন্যান্য দেশ বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশ সূচকে নিচে নেমেছে।

তিনি বলেন, “দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপক বিস্তার এবং জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের দরিদ্র জনগণ। আমরা সরকারের কাছ থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ও দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখতে পাই নাই। সেকারণে নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সরকারকেই নিতে হবে।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান এ বছর বাংলাদেশ ০-১০০ স্কেলে ২৭ স্কোর পেয়ে ১৭৭টি দেশের মধ্যে উর্ধ্বক্রম অনুসারে ১৩৬-তম এবং নিন্মক্রম অনুসারে ১৬-তম অবস্থানে রয়েছে। ২০১১ ও ২০১২ সালের তুলনায় নিন্মক্রম অনুযায়ী তিন ধাপ এবং ২০১২ সালের ১৪৪তম অবস্থানের তুলনায় আট ধাপ এগিয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় মাত্র এক স্কোর বেশী পাওয়ায় (২০১২ সালে ছিল ২৬) এবং ২০১১ সালে বাংলাদেশ একই স্কোর (২৭) পাওয়ায় সার্বিকভাবে বাংলাদেশের দুর্নীতির ধারণাসূচকে স্থবিরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ড. জামান বলেন, “একমাত্র আফগানিস্তান ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার ৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ নিন্মক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় সর্বনিন্ম অবস্থান করছে এবং ২০১৩ সালে বাংলাদেশ যে মাত্র এক পয়েন্ট বেশী পেয়েছে তা বৈশ্বিক গড় ৪৩ এর চেয়ে অনেক কম হওয়ায় অগ্রগতি হয়নি বলে  প্রতিয়মান হয়।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত তালিকার শীর্ষে যৌথভাবে অবস্থান করছে ডেনমার্ক ও নিউজিল্যান্ড, যাদের প্রত্যেকের স্কোর ৯১। ৮৯ স্কোর পেয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে নরওয়ে ও সিঙ্গাপুর যাদের স্কোর ৮৬। ৮ স্কোর  পেয়ে ২০১৩ সালে তালিকার সর্বনিম্নে অবস্থান করছে সম্মিলিতভাবে সোমালিয়া, উত্তর কোরিয়া ও আফগানিস্তান। ১১ ও ১৪ স্কোর পেয়ে তালিকার সর্বনিন্ম দ্বিতীয় ও তৃতীয় দেশ হিসেবে রয়েছে যথাক্রমে সুদান ও দক্ষিণ সুদান।

সূচকে স্কেলের ০ স্কোরকে দুর্নীতির ব্যাপকতার ধারণায় সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ১০০ স্কোরকে দুর্নীতির ব্যাপকতার ধারণার মাপকাঠিতে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত বা সর্বোচ্চ সুশাসন প্রতিষ্ঠিত দেশ বলে ধারণা করা হয়।

ড. জামান অভিমত প্রকাশ করে বলেন,  দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার অঙ্গীকারের বিপরীতে একগুচ্ছ সংশোধনী প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সরকারের পুরো মেয়াদকালে কমিশনকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপে রেখে প্রায় অকার্যকর করে রাখার কারণে সূচকে অগ্রগতি হয়নি।

 

নয়ন

এই বিভাগের আরো সংবাদ