ফেব্রুয়ারিতে পুঁজিবাজারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল

0
42
special tribunal

Courtপুঁজিবাজারে অনেক প্রত্যাশিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আগামি ফেব্রুয়ারি মাসে কাজ শুরু করবে। ইতোমধ্যে বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ সংক্রান্ত ফাইলটি এখন প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হকের দপ্তরে আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত ৭ জানুয়ারি পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত সপ্তাহে আইন মন্ত্রণালয় বিচারপতি নিয়োগের প্রস্তাব সংক্রান্ত ফাইলটি প্রধান বিচারপতির দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অর্থসূচককে নিশ্চিত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের মামলা নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন সংক্রান্ত ফাইলটি বুধবার প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতির অনুমোদনক্রমে ট্রাইব্যুনালের বাকি কাজ শুরু করা হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আশা করছি খুব শিগগিরই ট্রাইব্যুনাল গঠনের কাজ শুরু হবে। তবে কে বিচারপতি হবেন সে বিষয়টি তিনি প্রকাশ করেননি।

তিনি বলেন, আমাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন। যাতে এ মামলা নিষ্পত্তির পর কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে সে জন্য বিচারপতি কে হচ্ছেন তা আগে প্রকাশ করছি না।

এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, প্রধান বিচারপতি ফাইলটি অনুমোদন করার পর সব কিছুই জানানো হবে।

এ বিষয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামী অর্থসূচককে বলেন, আশা করছি ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে পুঁজিবাজারের ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সব প্রস্ততি শেষ করবে। সব কাজ শেষ হলেই মামলা নিষ্পত্তির কাজ শুরু হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আশা করছি এই ট্রাইব্যুনালে বিচার কাজ শুরু হলে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লষ্ট সবাই উপকৃত হবে। বিভিন্ন সময় পুঁজিবাজারের ধ্বংসের জন্য যারা কাজ করেছে এ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে আগামি দিন বাজারের ধ্বংসের জন্য আর কেউ উৎসাহী হবে না।

উল্লেখ, বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পরিচালনায় একজন দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ নিয়োগ দেবে সরকার। তিনি কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮ এর অধীনে সব ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ায় আপিল বিভাগ ছাড়া অন্য সব আদালতে দায়ের করা আগের সব মামলা এ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা যাবে। এক্ষেত্রে ওই সব মামলা শুনানি বা কার্যাদি যে পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে, সে অবস্থা থেকে মামলা চালাতে পারবে ট্রাইব্যুনাল।

নিম্ন আদালতে মামলা দায়েরের পর অনেক ক্ষেত্রে ওই মামলা হাইকোর্টে স্থগিত হয়। কখনো নিম্ন আদালতে রায় হলেও উচ্চ আদালতে সেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে অনেক সময় লেগে যায়। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছে কমিশন।

এছাড়া কমিশনের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেবল এ ট্রাইব্যুনালেই মামলা রুজুর অধিকার পাবে। তবে ট্রাইব্যুনালের রায়ে সন্তুষ্ট না হলে সংক্ষুব্ধ পক্ষের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ থাকব।

 

প্রসঙ্গত, প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, এসআরও নং-০১ আইন/২০১৪ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর সেকশন ২৫ বি এর সাব-সেকশন (১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ঢাকায় একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করল। সমগ্র বাংলাদেশ এর স্থানীয় অধিভুক্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হলো।

জানা গেছে, ট্রাইব্যুনাল না থাকায় পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত বেশ কিছু মামলা বছরের পর বছর ঝুলে আছে। ১৯৯৬ সালে শেয়ার কারসাজির জন্য দায়ের করা ১৫টি মামলা প্রায় ১৬ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি। আর ২০১১ সালে শেয়ার কারসাজির জন্য দুটি মামলা দায়ের করা হয়। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের ফলে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মোট ১৭টি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।

২০১২ সালে এ ট্রাইব্যুনাল গঠনের অনুমোদন দেয় সরকার। ১৯৬৯ সালের অধ্যাদেশ সংশোধন করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ আইন, ২০১২ প্রণয়ন করা হয়। ২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর সচিব কমিটির সভায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনে একজন বিচারকসহ মোট ছয় সদস্যের জনবল কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ২০১২-এর ২৫(বি) ধারা অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে গত ২৪ নভেম্বর সচিব কমিটির সভায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের ক্ষেত্রে একজন বিচারকসহ মোট ছয় সদস্যের জনবল কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ২০১২-এর ২৫(বি) ধারা অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে একজন দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজের বেতন স্কেল ৩৬ হাজার থেকে ৩৯ হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া একজন সাঁটলিপিকার, একজন বেঞ্চ সহকারী, একজন গাড়িচালক, একজন জারিকারক ও একজন এমএলএসএস। অপরদিকে ট্রাইব্যুনালের জন্য একটি সিডান কার, একটি কম্পিউটার মেশিন, একটি ফটোকপি এবং একটি ফ্যাক্স মেশিন থাকবে।

জিইউ