মেলায় রান্না হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে

0
84

mela-foodদফায় দফায় অভিযানের পরও মেলায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি বন্ধ হচ্ছে না। মেলা কর্তৃপক্ষ কয়েক দফায় প্যাভিলিয়ন ও স্টলের দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য খাবার রান্নার ব্যাপারে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের সে নির্দেশকে থোরাই কেয়ার করছে খাবার প্রস্তুতকারীরা।

মেলার দুই নং গেইটের টয়লেটের পশ্চিম পাশে ছোট্ট একটি স্থানে তাঁবু টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। যা বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছে না এর মধ্যে কী করা হচ্ছে। ওই স্থানে গিয়ে দেখা গেছে তাঁবুর নিচে কয়েকজন মিলে রান্নার কাজ করছে। রান্না বসানো হাড়ি-পাতিল ও কাটা শাক-সবজি রাখা আছে। এখানে বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ নেওয়া হয়েছে টয়লেটটি থেকে। প্রচণ্ড দুর্গন্ধে সেখানে দাঁড়ানোই কষ্টকর। পরিবেশটাও খুব নোংরা। অথচ এখানকার রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে মেলার বিভিন্ন প্যাভিলিয়নে।

কয়েক জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে,  এই খাবারগুলোই দুপুর ও রাতের বেলায় ক্যাটারিংয়ের খাবারের নামে মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কাছে বিক্রি করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অবৈধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির অপরাধে মেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ইপিবির সদস্য সচিব ড. বিকর্ন কুমার ঘোষ দোকানটি বন্ধ করে দিলেও এতে কোনো কাজ হয়নি। তার আদেশ উপেক্ষা করে আগেও রান্নার কাজ চলছে  আজও সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন ১০০ জনের খাবার ও ১৫০ জনের নাস্তা সরবরাহ করা হয় এখান থেকে। দুপুরের খাবারের সঙ্গে রয়েছে মুরগি ও গরুর মাংস। এর দাম ধরা হয়েছে ৬০ টাকা। আর নাস্তার জন্য ডিম পরটা ৩৫ টাকা ও সবজি পরটা ২৫ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে।

দোকানটির মালিকের নাম মোল্লা সাহেব। এভাবে খাবার বিক্রির জন্য কাউকে কোনো টাকা পয়সা দিতে হয় কি না জিজ্ঞেস করলে তিনি অর্থসূচককে বলেন, ‘এখানে বেচা-বিক্রির জন্য কাউকে কোনো টাকা পয়সা দিতে হয় না।

সারাবছরই এই মাঠে কাজ করি, গরু চরাই ও ফুলগাছগুলোর যত্ন নেই তাই এখানকার সবাই আমাকে চেনে।’

আর এ কারণেই তিনি প্রতি বছরেই মেলায় এ কাজটা করতে পারেন বলে জানান।

তবে খাবার তৈরি করার সময় পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখা হয় না কেন- এমন প্রশ্নের কোনো যথাযথ উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

এদিকে এ দোকানটির রান্নার কাজ চলছে টয়লেটের ওপরে বসানো ট্যাংকি থেকে পানি নিয়ে। এখান থেকে তারা পানি নেওয়াতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে পাশে অবস্থানরত মেলার দায়িত্বে থাকা ইলেকট্রিশিয়ান ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের।

এ বিষয়ে কথা হয় একজন ইলেকট্রিশিয়ানের সাথে তিনি বলেন, মোল্লা সাহেবের খাবারের দোকানের জন্য আমাদের বিছানা ও কাজের যন্ত্রপাতি ঠিক মতো রাখা যাচ্ছে না। আমাদের থাকার ঘরে প্রতিনিয়ত পানি ঢুকে।

এ ব্যাপারে মেলায় দায়িত্বরত ইপিবির সদস্য সচিব ড. বিকর্ন কুমার ঘোষকে জানানো হলে তিনি অর্থসূচককে বলেন, আমি গতকাল ওটা ভেঙে দিয়েছিলাম। তারা যদি ওই কাজটা আবার করে থাকে তবে তা ভেঙে দেওয়া হবে এবং অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেইউ/