রাজশাহীতে শীতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষিরা

0
94
Drgapur-beral-life

Drgapur-beral-lifeরাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার উত্তরাঞ্চলের একমাত্র অর্থকরী ফসল হচ্ছে পান। শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে পান গাছ থেকে পান ঝরে পড়ায় পানচাষি পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে হাহাকার। প্রতি বছর এ অঞ্চলের পান বরজগুলোতে শীতের সময় ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিলেই পান গাছ থেকে পান ঝরে পড়ে।

এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক পান চাষিদের পরামর্শ প্রদান করলেও কোনো কাজে আসছে না। পান বরজগুলো রক্ষা করতে ডাইথেন এম-৪৫, ইন্ডোফিল এম-৪৫, রিডোমিল গোল্ড, টিল্ট, স্কোর, কনফিডর, চিলেজিংসহ বিভিন্ন ছত্রাকনাশক, বালাইনাশক ও মাকড়নাশক ওষুধ ও অনুখাদ্য স্প্রে করেও কোনো প্রকার ফল পাচ্ছেন না পান চাষিরা।

উপজেলার বারানই নদীবিধৌত উত্তরাঞ্চলে সুখানদিঘী, আনোলিয়া, ব্রহ্মপুর, কালিগঞ্জ, দাউদকান্দি, হরিরামপুর, মাড়িয়া, রসুলপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে শতকরা ৯৬ ভাগ মানুষের পান বরজ আছে। এ অঞ্চলের সুস্বাদু মিষ্টিপান দিনাজপুর, সৈয়দপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁসহ দেশের চাহিদা মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, রুহিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।

এ অঞ্চলের পান চাষিরা তাদের পান বিক্রির টাকা দিয়ে ছেলে সন্তানের পড়াশোনা, বিয়ে-শাদি, বাড়ি-ঘর তৈরি করেন। কিন্তু ৩-৪ বছর আগে থেকে পান বরজগুলোতে শীতের প্রকোপ হলেই পান ঝরে পড়ে। প্রথমে পড়ে থাকা পানগুলো ফ্যাকাশে বর্ণের হয়ে যায়। আর দিনে দিনে পানের বোটা নরম হয়ে ঝরে পড়ে যায়। এভাবেই উজাড় হতে থাকে পান বরজগুলো। কোনো ওষুধ ছিটিয়েও এর থেকে রক্ষা পান না চাষিরা।

উপজেলার সুখানদিঘী গ্রামের পানচাষি মোল্লা ইয়াসিন আলী জানান, তার দুই বিঘা জমিতে ২৫ পৌন লগড়ের পান বরজ ছিল। এ বরজের পান বিক্রি করে ছেলে সন্তানের লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিবারের যাবতীয় খরচ চালিয়েও বছরে কিছু টাকা আয় হতো তার। কিন্তু গত ৩ বছর পূর্ব থেকে পানের বরজে অজ্ঞাত পচন রোগের আক্রমণ দেখা দেয়। সেটি কাটিয়ে উঠলেও এখন আবার পান ঝরে পড়া শুরু হয়েছে। ২৫ পৌন লগরের বরে প্রতিটি পঢ়ে ২০ থেকে ২২টি করে পান ছিল। কিন্তু গত দু’সপ্তাহে পান ঝরে পড়েছে প্রচুর পরিমাণে। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, এ অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি পরিবারেই পান বরজ আছে। আমার মতো এ অঞ্চলের সব পান বরজেই প্রায় একই অবস্থা বিরাজ করছে।

দাউকান্দি তেকাটাপাড়া গ্রামের পানচাষি ইউনুছ আলী জানান, এই গ্রামের প্রতিটি পান বরজেই এ রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। গত দু’সপ্তাহ ধরে একটানা শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে এ রোগ প্রকোট আকার ধারণ করেছে। প্রতিটি পান বরজের পানগাছগুলো থেকে পান ঝরে পড়ে সাবাড় হতে চলেছে। ইতোমধ্যেই অনেক পান বরজ প্রায় পানগাছ শূন্য হয়ে পড়েছে।

এদিকে অনেক পানচাষি পান বরজগুলো ভেঙে ফেলে কুলবাগান, পেয়ারাবাগান, আমবাগানসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ শুরু করেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুল হক বলেন, দুর্গাপুর উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে পান বরজ আছে। শৈত্যপ্রবাহের কারণে পান বরজের চালের ছউনিগুলো একটু ঘন করে ছেয়ে দিতে হয়। ঘন ছউনির পান বরজগুলোতে পান ভালোই রয়েছে। কিন্তু পাতলা ছউনির কারণে পান বরজগুলোর ভেতের কুয়াশা ঢুকে পড়ায় পানের কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তরা সবসময় পান চাষিদের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। ঘন কুয়াশার কারণে এ সময় প্রতি বছরই পানগাছ থেকে পান ঝরে পড়ে। তাই শীতের সময় বরজের ছাউনি একটু ভালোভাবে দিলে তাতে যথাযথ রক্ষা হয়।

কেএফ