শেয়ার কি? কত রকম শেয়ার হয়?

0
1774

sharecertificate_2শেয়ার (Share) অর্থ অংশ। হিস্যা। ভাগ।
পুঁজিবাজারে শেয়ার বলতে একটি কোম্পানির মালিকানার অংশ বিশেষকে বোঝায়। প্রাইভেট ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মূলধন অনেকগুলো ইউনিটে বিভক্ত থাকে। প্রতিটি ইউনিট একটি শেয়ার।

একটি কোম্পানির কতগুলো শেয়ার থাকবে তা নির্ভর করে ওই কোম্পানির মূলধন কত এবং শেয়ারের অভিহিত মূল্য কত তার উপর। ধরা যাক-এবিসি কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। আর তার শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। এ ক্ষেত্রে কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা দাঁড়ায় ১ কোটি।
এক শেয়ারহোল্ডার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কতটুকু মালিক তা নির্ধারতি হয় তার কাছে থাকা ওই কোম্পানির শেয়ার সংখ্যার উপর। একজন বিনিয়োগকারী কোম্পানি ঘোষিত লভ্যাংশও পেয়ে থাকেন শেয়ার সংখ্যার ভিত্তিতে।
তাই বলা যায়, শেয়ার এমন এক ধরনের সিকিউরিটি যা একটি কোম্পানির মালিকানা এবং তার আয় ও সম্পদের ওপর অংশীদারিত্ব প্রকাশ করে। ধরা যাক, সাফকাত ইসলাম এবিসি কোম্পানির ১০ লাখ শেয়ার ধারণ করছেন। তাই তিনি কোম্পানিটির এক দশমাংশের মালিক (১,০০,০০০০০/১০০০০০০=১০%)।
যুক্তরাজ্য, ভারত ও বাংলাদেশসহ অনকে দেশে এটি শেয়ার নামে পরিচিত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু দেশে একে বলা হয় স্টক।
শেয়ারের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীকে একটি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। একে শেয়ার সার্টিফিকেট বলে।
শেয়ার অনেক ধরনের হতে পারে। তবে এর প্রধান দুটি ধরণ হচ্ছে কমন শেয়ার ও প্রেফারেন্স শেয়ার।দুই ধরনের শেয়ারহোল্ডারই কোম্পানির কিছু অংশের মালিক।

কমন শেয়ারের ক্ষেত্রে ওই শেয়ারের মালিক কোম্পানির লভ্যাংশ পেয়ে থাকেন,আবার তিনি সাধারণ সভা এবং বিশেষ সাধারণ সভায় ভোটও দিতে পারেন।
প্রেফারেন্স শেয়ারে মালিক লভ্যাংশ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন। এমনকি কোম্পানি কোন কারণে দেওলিয়া হয়ে গেলে বা কোম্পানির অবসায়ন ঘোষণা করা হলেও তিনি তার পাওনার বিষয়ে অগ্রাধিকার পান। তবে এ ধরনের শেয়ারধারীদের কোনো ভোটাধিকার থাকে না।

প্রেফারেন্স শেয়ারের ক্ষেত্রে প্রাপ্য লভ্যাংশ আগেই নির্ধারণ করা থাকে। কিন্তু কমন বা অর্ডিনারি শেয়ারের ক্ষেত্রে লভ্যাংশ কম-বেশি হতে পারে। এমনকি কোনো বছর মুনাফা অর্জন সত্ত্বেও পরিচালনা পর্ষদ লভ্যাংশ ঘোষণা নাও করতে পারে। তবে সাধারণত কোম্পানির ব্যবসা তথা মুনাফা যত ভাল হতে থাকে লভ্যাংশের পরিমাণো তত বাড়তে থাকে।

কোম্পানির পারফরমেন্স ভাল হলে লভ্যাংশের হার বেড়ে যায় বলে বাজারে কমন শেয়ারের দামও বাড়ে। তাই এ শেয়ারে মূলধনী মুনাফার ভাল সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু প্রেফারেন্স শেয়ারের লভ্যাংশ নির্ধারিত থাকে বলে এতে মূলধনী মুনাফার তেমন সম্ভাবনা বা সুযোগ থাকে না।

অনেক ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় পর প্রেফারেন্স শেয়ারের অংশবিশেষ বা পুরোটা সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগ থাকে। সেটি সাধারণ শেয়ারের অভিহিত মূল্যেও হতে পারে। আবার বিশেষ মূল্যেও হতে পারে।  প্রেফারেন্স শেয়ার বা অগ্রাধিকার শেয়ার কি দামে সাধারণ শেয়ার বা অর্ডিনারি বা কমন শেয়ারে রূপান্তরিত হবে তা ওই প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাবে উল্লেখ করা থাকে।

অনেক দেশে কমন শেয়ারের মত প্রেফারেন্স শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে কেনাবেচা হয়। তবে বাংলাদেশে শুধু কমন শেয়ারই লেনদেনযোগ্য।

 

 

সূত্র: পুঁজিবাজার শব্দকোষ