সঙ্কটেও খুলনা বিসিকে বেড়েছে বিনিয়োগ

0
51
ফাইল ছবি

khulnabisicনানা সঙ্কটের মাঝেও শিল্পনগরী খুলনার বিসিকে বিনিয়োগ বেড়েছে, বেড়েছে কর্মসংস্থানও। সংশ্লিষ্টদের আশা অল্প কিছু সংস্কার হলে এই বিনিয়োগ আরও বাড়বে। তৈরি হবে নতুন উদ্যোক্তা।

দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় যেখানে সারা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক ধারা সেখানে খুলনা বিসিকের এই প্রবৃদ্ধিকে সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যই ইতিবাচক ভাবছেন অনেকে।

তাদের মতে খুলনা বিসিককে একটি মডেল শিল্পাঞ্চল হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এ জন্য দেশের রাজনৈতিক সুস্থিরতা আনাসহ বিসিক এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার ও সার্ভিস চার্জ কমানো প্রয়োজন বলে মনে করেন বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তারা।

এ সময় তারা সম্প্রতি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর এক বক্তব্যের বিরোধীতাও করেন। প্রসঙ্গত শিল্পমন্ত্রী কয়েক দিন আগে এক বৈঠকে বলেছিলেন বিবিস এলাকার সার্ভিস চার্জ বাড়ানো উচিত।

শিল্প উদ্যোক্তা আল মারুফ বলেন, ‘এখানে এখন অনেক বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শিল্পমন্ত্রী যেভাবে বলেছেন আমাদের জন্য তা ভালো কিছু হয় না।’ মারুফের মতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ভালো সার্ভিস নিশ্চিত করা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের আওতায় খুলনাঞ্চলে মোট বিনিয়োগ হয়েছে ১৭ হাজার ৬৯০ লাখ টাকা। মোট কর্মসংস্থান হয়েছে  ৯ হাজার ৬৭৪ জন। এর আগের অর্থবছরে এই বিনিয়োগর পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৯৫৭ লাখ টাকা। কর্মসংস্থান ছিল ৯ হাজার ৪৩০ জনের।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার শিল্প মালিকদের সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে পর পর তিন দফা সার্ভিস চার্জ বৃদ্ধি করেছে। প্রথম দফায় বছরে সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয় তিন হাজার টাকা। দ্বিতীয় দফায় ১৮ হাজার টাকা এবং সর্বশেষ সার্ভিস চার্জ বৃদ্ধি করে নির্ধারণ করা হয়েছে ৪২ হাজার টাকা। ঢাকার সঙ্গে মিল রেখে যে সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে, তা প্রত্যাহারের দাবি করে মালিকরা প্রতিবাদ জানালেও কোনো কাজ হয়নি।

শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ, যান চলাচলের অযোগ্য। মালবোঝাই ট্রাক প্রবেশ করতে পারে না বিভিন্ন কারখানায়। শিরোমণি-সংলগ্ন সড়কে ট্রাক আনলোড করে পরে তা অন্য কোনোভাবে কারখানায় নিয়ে আসা হয়। এতে বাড়তি খরচসহ সময় নষ্ট হচ্ছে।

বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন বলেন, খুলনাঞ্চলের অর্থনীতির চাকাকে শক্তিশালী করতে হলে উদ্যোক্তাদের সব রকম সুবিধা দিতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের কথা চিন্তা করে খুলনা মহানগরী  থেকে ১৫ কিলোমিটার উত্তরে খানজাহান আলী থানাধীন শিরোমণি এলাকায় নির্জন পরিবেশে বিসিক গড়ে  তোলা হয়। ৪৪ দশমিক ১০ একর জমিতে এ শিল্প এলাকায়  মোট প্লট সংখ্যা ২৪০টি। যা অনেক আগেই উদ্যোক্তাদের কাছে বণ্টন করা হয়েছে। বর্তমানে এখানে ৯৬টি শিল্প ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি খাদ্যজাত, কেমিক্যাল ২২টি, বনজ পাঁচটি, প্যাকেজিং চারটি, ইঞ্জিনিয়ারিং ১৪,  লেদার একটি ও ২১টি রুগ্ন শিল্প ইউনিট।