মেলায় অভিযানের নামে ইপিবির আইওয়াশ

0
39
ovijan

ovijanবাণিজ্য মেলার ১৩তম দিন বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টায় মেলায় দায়িত্বরত ইপিবির সদস্য সচিব ড. বিকর্ন কুমার ঘোসের নেতৃত্বে একটি ঝটিকা অভিযান সংগঠিত হয়েছে। মেলার কোথাও কোনো অসংগতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান। কিন্তু ইপিবির এ অভিযানকে নিছকই আইওয়াশ বলে অভিযোগ করলেন অন্যান্য স্টলের কর্মকর্তারা।

জানা যায়, মেলায় শুরুতেই ড. বিকর্ন কুমার অভিযান চালান ব্র্যাকের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজে। এ সময় তাদের খাবার সরবরাহ বন্ধ করতে বললে সাথে সাথে তা বন্ধ করে দেন তারা। কর্তৃপক্ষ চলে যাওয়ার ঠিক দুই মিনিটের মধ্যেই আবার তারা তা বিক্রি করতে শুরু করেন। কেন খাবার বন্ধ করতে বলা হয়েছে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ এটা তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে বন্ধ করতে বলছে জানিয়ে এক প্রতিবেদককে এড়িয়ে যান।

বিকর্ন ঘোষের এ অভিযানের সময় দেখা গেছে , তিনি  কিছুটা দুরে দাড়িয়ে থেকে আবুল খায়ের গ্রুপের  ও সিলনের ১৮ নস্বর প্যাভিলিয়নের সামনে অবৈধভাবে চা বিক্রি করতে থাকা কর্মচারীর কাছে দুজন সিকিউরিটি গার্ডকে পাঠান। তবে এ অভিযান টিম আসার আগেই খবর পেয়ে চা বিক্রেতারা চা বিক্রি বন্ধ করে দিলেন। তবু তাদেরকে আবারও গার্ড দিয়ে সতর্ক করলেন এ কর্মকর্তা। যদিও এর আগে আরও বেশ কয়েকবার সতর্ক  করা হয়েছিল।

মেলা শুরুর পর থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালালে এর আগেও বন্ধ হয় নি বৃহস্পতিবারও বন্ধ হল না চা বিক্রি। ঝটিকা অভিযানের টিমটি ওই স্থান ত্যাগ করার ২/৩ মিনিটের মধ্যেই আবারও চা বিক্রি শুরু করল সিলন কর্তৃপক্ষ।

এরপর অভিযানের পালা ছিল জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্যাভিলিয়নের দু’পাশে গড়ে উঠা দশটি ছোট ছোট অবৈধ খাবারের দোকানে। তাদেরকে মুখে মুখে আবারও সতর্কবার্তা দিলেন তিনি। দোকানিরা এ সময় এ কর্তা ব্যক্তিকে দেখে শুধু লাইট বন্ধ করেই জানান দিল বেচা বিক্রি বন্ধ হবে। কিন্তু কর্তা ব্যক্তি চলে যাওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যেই ধপধপ করে আবারও জ্বলে উঠলো দোকানের লাইটগুলো। এর আগেও এ দোকানগুলো বন্ধ করতে একই সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো  দোকানিই তা মানে নি। বরং কর্তা ব্যক্তি চলে যাওয়ার পর তাদেরকে হাসি ঠাট্টা করতে দেখা গেছে।

লোকমান হাজির বিরিয়ানীর ১নং স্টলের পাশে তাদের মালিকানায় বিক্রি হচ্ছিল কফি ও আইসক্রিম। বন্ধ করে দেওয়া হল ভাসমান এ দোকানটি। সাবধান করলেন তাদেরও।

ইপিবির কর্মকর্তা বললেন, আমি কিন্তু অনেক মেশিন ভেঙেছি। যা বিক্রি করার দোকানের মধ্যে তাই বিক্রি করবেন। আর যেন বাইরে না দেখি। এ সময় কফি বিক্রেতাকে উদ্দ্যেশ্য করে তিনি বললেন, সাংবাদিকরা বার বার অভিযোগ করে তোমরা ম্যাজিস্ট্রেটকে টাকা দিয়ে থাক। আর এই সুবাধে তোমরা অবৈধভাবে ব্যবসা করছো।

এরপর অভিযান চলল মেলার দুই নাম্বার গেইটের টয়লেটের পাশে। সেখানে তাবুর আড়ালে ছোট্ট জায়গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন খাবার। এখানে কয়েকজ লোক রান্না করছে। পাশে থাকা টয়লেট থেকেই এখানে বিদ্যুতের সংযোগ নেওয়া হয়েছে । এখানে তিনি তাদের বললেন, এখনই সব বন্ধ কর। আর কখনোই যেন এসব না দেখি।

সরেজমিনে দেখা গেছে ,এখানে পাশে থাকা টয়লেট থেকে ভীষণ দূর্গন্ধ আসছে। কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেল এ খাবারগুলোই দুপুরবেলা ও রাতেরবেলা মেলায় কর্মরত লোকজনের কাছে ক্যাটারিংয়ের খাবার বলে বিক্রি করা হয়ে থাকে।

তবে মজার বিষয় হল অভিযানকারী দলের নাকের ডগায় চলছিল অবিশ্বাস্য একটি তামাশা। পুরো অভিযান পরিচালনার সময় মেলায় কর্মরত ফাইভস্টার সিকিউরিটির জাহাঙ্গীর নামক একজন গার্ডকে মোবাইল নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকতে দেখা গেল।

তার ব্যস্ত থাকা মানে হল তিনি অভিযানের দলের পেছনে থেকে অবৈধ দোকানমালিকদেরকে ফোন করে সতর্ক করে দিচ্ছিলেন।

কেন সতর্ক করা হচ্ছে এ ব্যপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি কাঁচুমাচু করে বললেন, কি করমু ভাই। আগেভাগে বলে দিলে কয়টা টেকা পাই তাই এসব করি।

অভিযান চলাকালে রাস্তায় দেখা গেল, মাথায় ব্যান্ডেজ ও পায়ে গোদরোগ দেখিয়ে একজন ভিক্ষে করছে। তাকে নির্দেশ দেওয়া হল মেলা থেকে বেরিয়ে যেতে। তবে কিভাবে বের হবে এ বিষয়ে তাকে কোনো আদেশ দেন নি তিনি। কারণ ওই লোকটি হাটতে পারে না। আর লোকটি মেলায় প্রবেশ করলো কিভাবে তাও উপস্থিত সবার কাছে একটা বিস্ময়কর ব্যপার হয়ে থাকল।

তবে এ সাড়াশি অভিযানের পরও দোকানগুলো আবার খুলেছে এমন প্রশ্নের জবাবে ড. বিকর্ন কুমার ঘোস অর্থসূচককে বলেন, আমরা এ বিষয়ে আরও খতিয়ে দেখছি।  অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেইউ/এএস