মেলায় অনুমোদন এক পণ্যের বিক্রি হচ্ছে আরেক পণ্যের

0
36
malla

malla১৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে এক ধরনের পণ্য বিক্রির অনুমতি নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে অন্য ধরনের পণ্য। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে অন্য প্যাভিলিয়ন ও স্টলের কর্তৃপক্ষরা। আর এ বিষয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোরও (ইপিবি) নেই  কোনো স্বচ্ছ তদারকি। যেন বরাদ্দ দিয়েই দায় সেরেছে তারা। এসব প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলো নিয়ম মানছে কি-না সেদিকে ইপিবির দৃষ্টি নেই বলা চলে।

তদারকির জন্য টিম থাকলেও কারও অভিযোগ না আসলে তারা নিজে থেকে কখনোই মাঠে নেমে স্টল বা প্যাভিলিয়নগুলো পরিদর্শন করে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের কাছে কেউ এসে কোনো অভিযোগ করলে ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই কেবল তাদেরকে সক্রিয় হতে দেখা যায়।

কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলোতে এসব বিষয়ে নানা কথা হচ্ছে। এছাড়া, অভিযোগ উঠেছে ইপিবির নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও। মেলায় আগত দর্শনার্থী ও স্টলের কয়েকজন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে এসব অনিয়ম ও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি স্টলের কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, মেলায় অনেক অসঙ্গতি রয়েছে। কিন্ত এসব আমরা বলতে পারি না। বললে আমাদের সমস্যা হবে।

তদারকি করে চলে গেলে আবার সেই একই দোকান আগের জায়গায় বসেই একই পণ্য বিক্রি করে।

স্টলের কয়েকজন কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি স্টল এক ধরনের পণ্যের নামে বরাদ্দ নেওয়া হলেও তাতে বিক্রি করা হচ্ছে অন্য পণ্য।

তবে এন্টারপ্রাইজ এবং ট্রেডার্স নামের স্টলগুলো ঘিরেই এ অনৈতিক কাজ বেশি হচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সাইন বোর্ড ছাড়াও চলছে কয়েকটি স্টল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি স্টলের কর্মকর্তা অর্থসূচককে জানান, প্রতিবছরই এমন হয় বিদেশি কিছু কিছু কোম্পানি স্টল বরাদ্দ নিলেও তারা মেলায় আসে না। আর স্টলগুলো ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ছত্রছায়ায় চলে যায়।

আরেকটি স্টলের এক কর্মকর্তা ক্ষোভের সাথে বলেন, এটা তো সবসময়ই হয়, কিন্ত এসব বলা যাবে না, আর  বললেও লাভ কি, আপনারাও তো এসব অনিয়ম নিয়ে পত্র-পত্রিকায় লিখেন না।

অনেকগুলো শর্ত মেনে এখানে স্টল বরাদ্দ নিতে হয়েছে তাই বলো যাবে না এই কথা বলে স্টল থেকে বের হয়ে নিজেই কয়েকটি স্টল দেখিয়ে বলেন, দেখেন লেখা এন্টারপ্রাইজ আর বিক্রি হয় কি?

আরেক স্টলে খাবারের আইটেম বিক্রি হচ্ছে কিন্তু স্টলের সাইন বোর্ড নাই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্টলে কর্মরত মামুন বলেন, সাইনবোর্ড বানাতে দিয়েছি এখনও আসেনি তাই লাগানো হয় নি।

মেলার ‍১৩ দিন চলে গেলেও এখনও কেন সাইন বোর্ড বানানো হয় নি এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারেনি তারা।

জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতির বরাদ্দকৃত প্যাভিলিয়নের মাঝামাঝি অংশে বিভিন্ন কুটির শিল্পের তৈরি পোশাক থাকলেও দুই পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট খাবারের দোকান। জানা গেছে, এই ছোট ছোট দোকানগুলো অন্যান্য স্টল মালিকদের অভিযোগের চাপে ইপিবির উদ্যোগে একবার বন্ধ করা হলেও সেগুলো আবার দু তিন ঘণ্টা পরেই চালু করা  হয়েছ। আর প্রতিদিনই এই দোকানগুলো চলছে ইপিবির চোখের সামনে।

একই ধরণের অনিয়ম চোখে পড়ে আরও বেশ কয়েকটি জায়গায়। একটি স্টলের ব্যনারে দেখা গেছে একই সাথে লিখা শান্তা ইলেকট্রনিক্স ও বিশাল সেন্টার। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে খাবার। তবে মেলা শুরু হওয়ার প্রায় ৬/৭ দিন পর এ স্টলে বিক্রি শুরু হয়েছে।স্টল কর্তৃপক্ষকে এ ব্যপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি দাবি করেন,এটা খাবারের দোকানের অনুমোদন নেয়া হয়েছে। অথচ মেলার ফুড জোন আলাদা অংশে। এখানে কোন খাবারের দোকান  থাকার কথা নয়। এসব স্টলে থাকার কথা ছিল পোশাক জাতীয় পণ্য।

এছাড়া অনুমোদন না থাকলেও আবুল খায়ের গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিলন এর প্যাভিলিয়নের বাইরের অংশে দেদারসে বিক্রি করা হচ্ছে চা।

এ বিষয়ে জানতে চাইরে মেলা কমিটির সদস্য সচিব বিকর্ন কুমার ঘোষ অর্থসূচককে বলেন, মেলার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইপিবি সর্বাত্বক চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, আমরা কেউ কোনো অভিযোগ দেওয়ার সাথে সাথেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। এছাড়া ইপিবির মনিটরিং টিম মেলা মাঠে সক্রিয় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ সময় তিনি আরও বলেন, আপনারা (সাংবাদিকরা) আমাদের এসব অনিয়ম ধরিয়ে দেন, আমরা ব্যবস্থা নেব।

মেলার কর্তৃপক্ষ হিসেবে ইপিবি কেন নিজ থেকে সক্রিয় এমন অভিযোগ সত্য কিনা জানতে চাইলে বিকর্ণ ঘোষ বলেন,মেলার সকল বিষয়ে আমরা সচেতন রয়েছি।

মেলায় নির্ধারিত খাবারের বাহিরেও অপরিস্কার লোকাল কিছু খাবার বিক্রি হচ্ছে এসবের ব্যাপারে কি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে বাহিরের খাবার প্রবেশ নিষেধ, তবুও কেউ যদি নিয়ম ভঙ্গ করে বিক্রি করে তাহলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট নিয়মিত মেলায় অভিযান পরিচালনা করছে।

জেইউ