বই মেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা

0
69
বই মেলা

বই মেলানির্ধারিত সময়ে একুশে বই মেলা শুরুর বিষয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রীতি অনুসারে ১ ফেব্রুয়ারি এ মেলা শুরু হওয়ার কথা। ইতোমধ্যে প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। তবে কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতা, মেলার বড় অংশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিয়ে যাওয়াসহ নানা কারণে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। তবে মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের জোরালো দাবি-নির্ধারিত সময়েই মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, একুশে বই মেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই বাংলা একাডেমি চত্বরে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রকাশনীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মূল প্রাঙ্গণের বাইরে দু’পাশের সড়কেও অনেক স্টল বসছে। এ কারণে মেলা চলাকালীন সময়ে দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি পর্যন্ত সড়ক কার্যত বন্ধ থাকে। এতে চারপাশে তীব্র যানজট দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতি এড়াতে গত সোমবার অনুষ্ঠিত এক আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকে বেসরকারি সব প্রকাশনীকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্ত অনুসারে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে শুধু বাংলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউটসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো স্থান পাবে।

সংশ্লিষ্টদের আশংকা, নতুন জায়গায় এত অল্প সময়ে অবকাঠামো তৈরি শেষ করতে পারবে না কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে মেলা পেছানোর বিষয়ে অনেক প্রকাশকেরও চাওয়া আছে। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ফেব্রুয়ারি মাসেও শেষ হবে কি-না তা সে বিষয়ে অনিশ্চতায় ভুগছিলেন অনেক প্রকাশক। এমন অনিশ্চিত অবস্থায় বই ছাপা ও নতুন বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে চাননি তারা। তাই মেলা পেছানো না হলে অনেকটা অপ্রস্তুত অবস্থায় তাদেরকে অংশ নিতে হবে। বই বিক্রি করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন না তারা। তারাই যথাসময়ে মেলা শুরুর বিষয়ে আশংকা প্রকাশ করছেন বেশি।

তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে মেলা পিছানোর নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তারা নির্দিষ্ট সময়ে মেলা শুরুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ব্যস্ত আছেন বলে জানা গেছে।

বাংলা একাডেমীর সদস্য সচিব সাদিয়া খাতুন অর্থসূচককে জানান,‘আমরা প্রতিবছরের মতো ১ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরুর প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছি। তবে পেছানোর কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই বলে দাবি করেন তিনি’।

কথা জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা মোর্শেদ আনোয়ারের সঙ্গে। তিনি জানান, কাজ যেভাবে চলছে তাতে মেলা পিছানোর কোনো প্রয়োজনই পড়বে না।

বাংলাবাজারে সোহেল বুক ডিপুর মালিক সোহেল রানার সঙ্গে। তিনি অর্থসূচককে জানান,‘দুই দিন আগে জানতে পেরেছি মেলা পিছানো হচ্ছে। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে’। তবে ৭ দিন পরে শুরু করে যদি ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ করে দেওয়া হয় তাহলে  ব্যবসায়ীদের বড় ক্ষতি হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন,‘প্রথম সপ্তাহ লাগে মেলা জমতে। তাতে আরও ৭ দিন চলে গেলে ব্যবসা কিভাবে হবে’।

অনন্যা প্রকাশনীর কর্ণধার নাজমুল হক জানান,গত কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নতুন বইয়ের কাজ কম হয়েছে। মেলা শুরুর ঠিক আগে এই চাপ আরও বাড়ছে। তাতে ৭ দিন পেছালে কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন বলে জানান তিনি। সে ক্ষেত্রে মেলার শেষটাও ৭ দিন পিছিয়ে দেওয়া দরকার মনে করেন তিন।

বাংলা একাডেমির সূত্র জানিয়েছে,  যে কোনো পরিস্থিতিতে নির্ধারিত দিনে তথা ১ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু করার বিষয়ে তারা বদ্ধপরিকর। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে।  সেখানকার সব প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেলা উদ্বোধন করবেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সব স্টলের প্রস্তুতি শেষ না হলে তাকে সেখানে নেওয়া হবে না।