কামারুজ্জামানের রায়ের কপি কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
77
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাইল ছবি।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাইল ছবি।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাইল ছবি।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের চূড়ান্ত রায়ের কপি আপিল বিভাগ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছেছে।

সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ জানান, ট্রাইব্যুনাল থেকে রায়ের অনুলিপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কারা কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট থেকেই রায়ের অনুলিপি  পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে।

রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার আফতাবুজ্জামান ওই নথি ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারকদের কাছে উপস্থাপন করেন। আদালতের নির্দেশনা পেয়ে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তা পৌঁছে দেন সন্ধ্যা পৌনে ৬টায়।

রায়ের এই অনুলিপি হাতে পাওয়ায় কারা কর্তৃপক্ষ এখন জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে প্রাণভিক্ষার আনুষ্ঠানিকতা সারতে পারবে।

প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা ও আপিল বেঞ্চের তিন বিচারপতি বুধবার বিকালে ৩৬ পৃষ্ঠার এই রায়ে সই করেন।

বেঞ্চের বাকি তিন সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

নিয়ম অনুযায়ী রায়ের অনুলিপি কারাগারে পৌঁছানোর পর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামান অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারবেন। তিনি আবেদন করলে  রাষ্ট্রপতি তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেবেন।

ওই আবেদনের নিষ্পত্তি হয়ে গেলে অথবা কামারুজ্জামান প্রাণভিক্ষার আবেদন না করলে সরকার কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দণ্ড কার্যকরের ব্যবস্থা নেবে বলে আগেই জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে কারা কর্তৃপক্ষ এরইমধ্যে সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

কারাগারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর তারা কামারুজ্জামানের কাছে জানতে চাইবেন তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না। কামারুজ্জামান প্রাণভিক্ষার আবেদন করলে তা পাঠানো হবে সরকারের কাছে।

আর তিনি প্রাণভিক্ষা না চাইলেও কারা কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি সরকারকে জানাবে। সরকার দণ্ড কার্যকরের নির্দেশনা দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রাণভিক্ষার প্রশ্নে আসামি ভেবে দেখার সময় চাইলে কী করা হবে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, “সে বিষয়টিও সরকারকে জানানো হবে।”

২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর যুদ্ধাপরাধে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে কাদের মোল্লার  ফাঁসি কার্যকরের ক্ষেত্রেও এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল। তবে সে সময় কাদের মোল্লা প্রাণভিক্ষার আবেদন করেননি বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ চার বিচারপতির বেঞ্চ মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহের আল-বদর বাহিনীর প্রধান কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানায় সই করেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর তিন বিচারপতি। ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যু পরোয়ানা পাঠানো হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের আইজিপি (প্রিজন), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে। কারাগারে কামারুজ্জামানকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়।

২১ ফেব্রুয়ারি কারাগারে দেখা করতে যাওয়া আইনজীবীদের রিভিউ আবেদনের নির্দেশ দেন কামারুজ্জামান। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করেন পরিবারের সদস্যরা।

৫ মার্চ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন করেন।

রিভিউ আবেদন দাখিল শেষে অ্যাডভোকেট শিশির মনির সাংবাদিকদের জানান, ৪৫ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে আমরা কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের ৪৪টি অসঙ্গতি তুলে ধরেছি।

উল্লেখ্য, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় আল-বদর বাহিনীর প্রধান হয়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলে মানবতাবিরোধী অপরাধের নেতৃত্ব দেন কামারুজ্জামান। ২০১৩ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে ফাঁসির আদেশ দেন। গত বছরের ৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

এসএল/