দিনাজপুরে চড়ামূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ কৃষকদের

0
42

rangpur_districtদিনাজপুরের বিরল উপজেলায় কিছু অসাধু সার ডিলার সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ইউরিয়া সারের প্রতি বস্তা ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। ডিলাররা বলছেন, রাজনৈতিক জ্বালাও পোড়াও কর্মসূচির কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ইউরিয়া সার প্রতি বস্তায় ৫০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, একইভাবে মিউরেট অব পটাশ (এসওপি), ডাইঅ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ও ট্রিপল সুপার ফসফেটের (টিএসপি) দামও ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, বিরল উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় সরকারের অনুমোদিত বিসিআইসি ডিলার ১১ জন, বিএডিসি ৫ জন ছাড়াও খুচরা ৭৪ জন ডিলার রয়েছে। ফার্টিলাইজার ও উপজেলা সার কমিটির নির্দেশনানুযায়ী বিসিআইসি ও বিএডিসি অনুমোদিত প্রতিটি সার ডিলার নিজ নিজ ইউনিয়নের গুদামে বরাদ্দকৃত সার রেখে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের কৃষকগণের মাঝে সরকারি মূল্যে বিক্রি করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ডিলাররা তা না করে বেশি মুনাফা লাভের আশায় চরা দামে এক ইউনিয়নের সার অন্য ইউনিয়নে বিক্রি করছেন।

কৃষকদের দাবি, উপজেলায় পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকার পরও রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু সার ব্যবসায়ী সার নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন।

বিরল উপজেলায় এখনো ইরি-বোরো আবাদ শুরু না হলেও বিরলে এবার ১২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছে কৃষকেরা। উপজেলায় চলতি মৌসুমে ভুট্টা, আলুসহ বিভিন্ন রকমের শীতকালীন সবজি চাষের শুরু থেকে উত্তোলন পর্যন্ত সারের চাহিদা থাকায় ইরি-বোরো চাষ শুরুর আগেই সার ব্যবসায়ীরা সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে।

ইতোমধ্যে কৃষি অফিস স্লিপের মাধ্যমে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃষকদের মাঝে সরকারি মুল্যের চেয়ে অতিরিক্ত পরিবহন খরচের কথা বলে প্রতি ইউরিয়া সারের বস্তা ৫০ থেকে ১০০ টাকা, অন্যান্য সারের প্রতিবস্তা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছে বলে জানান কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার নীতিমালা অনুযায়ী বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার ফ্যাক্টরি হতে ইউরিয়া সার ৭০০ টাকা বস্তা কিনে ৮০০ টাকায় বিক্রি করবে। স্ব-স্ব ইউনিয়নের কো্নো কৃষক সার কিনতে গেলে প্রতারিত হলে ওই ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু ঐসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির বিরল উপজেলায় নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডিলার বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তারা পরিবহন খরচ বাবদ কিছুটা বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। ইরি-বোরো মৌসুমে যেন সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করতে পারে এজন্য উপজেলা সার মনিটরিং কমিটি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী কর্মকর্তাগণ মাঠ পর্যায়ে কঠোরভাবে নজরদারি বাড়াতে হবে। এর ফলে সারের কৃত্রিম সংকট থাকবে না বলেও কৃষকসহ সচেতন মহল মনে করছেন।