রেমিটেন্স প্রবাহে আবারও ধস

মার্কিন ডলার ( ফাইল ছবি)

dollar-bills-hq-3d-renderচলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সম্পূর্ন স্থবির হয়ে পড়েছে। আর এর প্রভাব পড়েছে অর্থনীতির আর একটি চালিকা শক্তি রেমিটেন্সও। সদ্য সমাপ্ত  নভেম্বর মাসে কমে গেছে প্রবাসীদের টাকা পাঠানোর হার। এক মাসের ব্যবধানে রেমিটেন্স কমেছে এক হাজার ৩৯৬ কোটি ২৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

 

একদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতায় বাংলাদেশর অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়ছে অন্যদিকে অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি রেমিটেন্স কম আশায় উদ্বেগ প্রকাশ করছে অর্থনীতিবিদরা। তারা এটাকে দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্নক হুমকি বলে মনে করছেন। রেমিটেন্স কম আসা এবং দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতা চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিটেন্স পাঠিয়েছে ১০৫ কোটি ১১ লাখ মার্কিন ডলার। অক্টোবরে প্রবাসীদের পাঠানোর বৈদেশিক মুদ্রা পরিমাণ ছিল ১২৩ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে কমেছে ১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার টাকায় যার পরিমান (এক হাজার ৩৯৬ কোটি ২৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য মতে, চলতি ১৩-১৪ অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসীরা বাংলাদেশে রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন ১২৩ কোটি ৮৪ লাখ মার্কিন ডলার। তার পরের মাস আগস্টে ১০০ কোটি ৫৭ লাখ মার্কিন ডলার। সেপ্টেম্বরে ১০২ কোটি ৫৬ লাখ মার্কিন ডলার এবং অক্টোবরে রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন ১২৩ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।

এ বিষয়ে ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ অর্থসূচককে বলেন, রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাওয়া আমাদের অর্থনীতির জন্য চিন্তার বিষয়। কারণ অর্থনীতির সূচকগুলোর মধ্যে একমাত্র রিজার্ভ তথা প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সই শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য অর্থনীতির একটা বড় চালিকা শক্তি হলো রেমিটেন্স। রেমিটেন্স কম আসা অর্থনীতিতে খারাপ ইঙ্গিত দেয়।

তিনি বলেন, সম্প্রতি সময়ে অনেক প্রবাসী দেশে ফেরত আসছে। আর আমাদের ডলারের দাম অনেক দিন যাবৎ স্থিতিশীল রয়েছে। বেশি লাভের আসায় প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেল রেখে অন্য পথে টাকা পাঠাচ্ছে। এতে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রবাহ কমছে বলে তিনি জানান। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ভেঙ্গে পড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ৩৩ কোটি ৯৫ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। দুটি বিশেষায়িত ব্যাংকের (কৃষি ও বেসিক ব্যাংক) মাধ্যমে এক কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। ৩০টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৬৮ কোটি ৬৩ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। বিদেশি ৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ২৯ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।

প্রবাসীদের কাছ থেকে আসা মোট রেমিটেন্সের মধ্যে শুধু বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ২৮ কোটি ৫২ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, ২০১১-১২ অর্থবছরে রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৮৪ কোটি ডলার। ২০১২-১৩ অর্থবছরে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৪৬ কোটি ডলারে।