ঢাকা-চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের তফসিল এ মাসেই: সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
75
cec
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। ছবি- সংগৃহীত
cec
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ। ছবি- সংগৃহীত

ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল এ মাসেই ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় মিলনায়তনে স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে শেষে তিনি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কবে আয়োজন করা যায় এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য এ বৈঠক করে ইসি।

রোজার আগেই ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচন করা হবে জানিয়ে সিইসি বলেন, জুনের ১৯ তারিখ থেকে রোজা শুরু হতে পারে। এর আগেই ঢাকা সিটির নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচন রোজার পরে করতে গেলে আইনের বরখেলাপ হয়ে যাবে। তাই রোজার আগে সব নির্বাচন করতে হবে। এজন্য এ মাসের মধ্যে নির্বাচনে তফসিল দিতে হবে।

তিনি বলেন, আগামী ১ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা চলবে। এ সময়ের মধ্যে অন্তত ৫ দিনের গ্যাপ পেলে তাতে ভোট করা হবে।

তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এখনো নির্দিষ্টভাবে বলা যাবে না। ইসি বসে গ্যাপগুলো দেখে দিন নির্ধারণ করবে। সব নির্বাচনই আমাদের রোজার আগে করতে হবে।

রকিব উদ্দিন বলেন, যদি হরতাল হয়, তাহলে শুক্র-শনিবার পরীক্ষার্থীর জন্য ছেড়ে দেব। বাকি সময়ে গ্যাপ খুজে নির্বাচন করে ফেলব।।

সিইসি বলেন, আজকের বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সমস্যা আছে কি না- তা অ্যাসেস করার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে ইসির সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এখন সুবিধামতো সময়ে নির্বাচন করতে হবে।

কাজী রকিব উদ্দীন বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি উন্নত হচ্ছে। গত কয়েকদিনে পরিস্থিতি আরও বেশি ভালো হয়েছে। তারা আশা করছে, সামনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও ভালো হবে। তাই নিবার্চন করতে কোনো বাধা দেখছে না তারা। তাদের পক্ষ থেকে কোনো সমস্যা নেই বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে একসঙ্গে নির্বাচন করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একসঙ্গে করবো না কি আলাদা করবো, এখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। ইসি সবদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে অনেকগুলো সিটি নির্বাচন করেছি। সেখানে সেনাবাহনী প্রয়োজন হয়নি। পরিস্থিতি বুঝে এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নির্বাচন নিশ্চিত না অনিশ্চিত এমন এক প্রশ্নের জবাবে রকিব উদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তাতে নির্বাচন না হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না।

সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে কি না- এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, আশা করছি, এখনো সময় আছে। এর মধ্যে পরিস্থিতি উন্নত হবে। সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে বৈঠক শেষে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও সাফল্য করতে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

বৈঠকে আরও ছিলেন চার নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক, আবু হাফিজ, জাবেদ আলী ও মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ এবং ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম, পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মোখলেসুর রহমান, বিজিবির মহাপরিচালক আবদুল আজিজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফাহমিদা খাতুনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের এপ্রিল মাসে অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৭ সালের মে মাসে এর মেয়াদ শেষ হয়। এরপর সীমানা সংক্রান্ত জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে আর নির্বাচন হয়নি। গত মাসে সীমানা জটিলতার সুরাহা করে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানায় স্থানীয় সরকার বিভাগ। আর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শেষ নির্বাচন হয় ২০১০ সালে।

এমআই/এসএল/